নওগাঁর পত্নীতলায় ৮১৭ পিস অবৈধ ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার হওয়া স্বামী-স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদকের পাইকারি কারবারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। শনিবার রাতে উপজেলার দেওয়ালকুড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন দেওয়ালকুড়ি (রামরামপুর) গ্রামের মৃত এরফান আলীর ছেলে সিরাজুল ইসলাম (৪০) এবং তাঁর স্ত্রী মোছা. ডলি খাতুন (৩৫)।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ২৯ আগস্ট রাত সাড়ে ১০টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পত্নীতলা থানা পুলিশের একটি দল দেওয়ালকুড়ি এলাকায় অভিযান চালায়। পরে সিরাজুল ইসলাম ও ডলি খাতুনের বসতঘরে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় ঘর থেকে ৮১৭ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট জব্দ করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযানের পর মাদক কারবারের অভিযোগে ওই দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্ধার করা ট্যাবলেটগুলো জব্দ করে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য, গ্রেপ্তার হওয়া সিরাজুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী ডলি খাতুন এলাকায় মাদক কারবারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে মাদক কেনাবেচার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এ ঘটনায় পত্নীতলা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মামলার পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী তাঁদের আদালতে হাজির করা হবে। রোববার আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর কথা রয়েছে।
নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং এ ক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
পত্নীতলায় এই অভিযানে একসঙ্গে স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার এবং তাঁদের কাছ থেকে বিপুলসংখ্যক ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধারের ঘটনা স্থানীয়ভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে উদ্ধার করা মাদকের উৎস, সরবরাহব্যবস্থা বা এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না—এসব বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলাটি তদন্তের মাধ্যমে মাদক কারবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়গুলো যাচাই করা হবে। একই সঙ্গে গ্রেপ্তার দম্পতিকে আদালতে পাঠিয়ে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।