নারায়ণগঞ্জের বন্দরে চাঁদা না দেওয়ায় একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। হামলাকারীরা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ফটক ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করে। পরে ব্যর্থ হয়ে কারখানার সীমানাপ্রাচীরের বাইরে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যায় বলে অভিযোগ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা।
ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার বিকেলে বন্দর উপজেলার মদনপুরের সুখেরটেক এলাকায় অবস্থিত ‘হলোপ্লাস সেন্টার’ নামের শিল্পপ্রতিষ্ঠানে। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বন্দর থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর শনিবার ২৯ আগস্ট ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার সাইফুল ইসলাম জানান, স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র বেশ কিছুদিন ধরে তাঁদের কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় বৃহস্পতিবার বিকেলে একদল দুর্বৃত্ত আকস্মিকভাবে কারখানায় হামলা চালায় বলে তাঁর অভিযোগ।
সাইফুল ইসলামের ভাষ্য, হামলাকারীরা প্রথমে প্রতিষ্ঠানের মূল ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করে। তবে কোনো কারণে তারা ভেতরে ঢুকতে পারেনি। পরে কারখানার সীমানাপ্রাচীরের বাইরে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো ভাঙচুর করে। যাওয়ার সময় তারা প্রতিষ্ঠানের লোকজনকে প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
হামলার ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে চাঁদা দাবির বিষয়টি আগে থেকেই চলছিল বলে ম্যানেজারের বক্তব্যে উঠে আসায় ঘটনাটিকে বিচ্ছিন্ন হামলা হিসেবে দেখার সুযোগ আছে কি না, সেটিও তদন্তের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে হামলার সঙ্গে কারা জড়িত এবং ঠিক কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা তদন্তের আগে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দেওয়া অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
ঘটনার পর বন্দর থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়। অভিযোগের পর শনিবার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হামলার স্থান পরিদর্শন করে। ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি হামলাকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দীপংকর ঘোষ বলেন, হামলার বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
শিল্পপ্রতিষ্ঠানে চাঁদা দাবির অভিযোগ এবং তা না পেয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগের তদন্তে হামলার কারণ, চাঁদা দাবির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা এবং হামলাকারীদের পরিচয় স্পষ্ট হবে বলে আশা করছে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।