• রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:৪৬ অপরাহ্ন

স্বামী হত্যার অভিযোগে স্ত্রী ও বেয়াই গ্রেপ্তার

newsline24 / ৭ Time View
Update : রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬
স্বামী হত্যার অভিযোগে স্ত্রী ও বেয়াই গ্রেপ্তার
স্বামী হত্যার অভিযোগে স্ত্রী ও বেয়াই গ্রেপ্তার

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় মফিজার মোল্যা নামের এক ব্যক্তিকে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে তাঁর স্ত্রীসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন নিহতের স্ত্রী ফাতেমা বেগম এবং তাঁর বেয়াই মশিয়ার রহমান। এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে বাদী হয়ে থানায় মামলা করার পর তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ফাতেমা বেগম উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের ভাটগাতী গ্রামের বাসিন্দা। অপর আসামি মশিয়ার রহমান একই ইউনিয়নের ঈশানগাতী গ্রামের শওকত রহমানের ছেলে। লোহাগড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় তাঁদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল রাতে ভাটগাতী গ্রামের নিজ বাড়িতে মফিজার মোল্যাকে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পর থেকেই তাঁর স্ত্রী ফাতেমা বেগম ও মশিয়ার রহমানের সম্পৃক্ততা নিয়ে এলাকায় আলোচনা শুরু হয়। তাঁদের মধ্যে সম্পর্কের বিষয়কে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে তখন স্থানীয়ভাবে গুঞ্জন ছড়িয়েছিল।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত এবং কীভাবে মফিজার মোল্যার মৃত্যু হয়েছে—এসব বিষয় মামলার তদন্তে খতিয়ে দেখা হবে।

ঘটনার প্রায় চার মাস পর গত ২৯ আগস্ট দুপুরে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি ফাতেমা বেগম ও মশিয়ার রহমানকে আটক করেন। পরে তাঁরা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে লোহাগড়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুজনকে হেফাজতে নেয় এবং থানায় নিয়ে আসে।

এরপর শনিবার রাতে নিহত মফিজার মোল্যার মেয়ে মনিকা বেগম বাদী হয়ে লোহাগড়া থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার এজাহারে তাঁর মা ফাতেমা বেগম ও মশিয়ার রহমানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও দুই থেকে তিনজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

মামলার পর পুলিশ এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখায়। পরে তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

লোহাগড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় বলেন, নিহতের মেয়ে বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মামলায় নাম থাকা ফাতেমা বেগম ও মশিয়ার রহমানকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলবে। হত্যার পেছনে প্রকৃত কারণ কী ছিল, অভিযোগের সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে।

এদিকে দীর্ঘ সময় পর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা ও দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দোষী হিসেবে গণ্য করা যাবে না। তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় ঘটনার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category