বায়ার্ন মিউনিখের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছেন ইংল্যান্ডের তারকা ফরোয়ার্ড হ্যারি কেইন। জার্মান ক্লাবটির সঙ্গে তাঁর বর্তমান চুক্তির মেয়াদ ২০২৭ সাল পর্যন্ত থাকলেও দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের কারণে তাঁকে আরও দীর্ঘ সময় দলে রাখতে আগ্রহী বায়ার্ন কর্তৃপক্ষ।
স্টুটগার্টের বিপক্ষে ঘরের মাঠে ৫-১ গোলের বড় জয়ের পর চুক্তি নবায়নের বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন কেইন। তিনি জানান, গত সপ্তাহে এ বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথম বৈঠক হয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা প্রয়োজন রয়েছে।
কেইনের ভাষায়, তাঁর বয়স এখন ৩৩ বছর। ফলে পরবর্তী চুক্তিটি ক্যারিয়ারের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। যদিও এটিই তাঁর শেষ চুক্তি হবে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত নন তিনি। তবে বায়ার্নে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছেন এই ইংলিশ ফরোয়ার্ড।
কেইন বলেন, চুক্তির আগে বেশ কিছু খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে দুই পক্ষকে সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে। তাঁর মতে, বায়ার্নকে যেমন নিশ্চিত হতে হবে যে তিনি ক্লাবটিতে সুখী ও সন্তুষ্ট, তেমনি তাঁরও নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন যে ক্লাব কর্তৃপক্ষ তাঁকে নিয়ে সন্তুষ্ট। তাই কোনো ধরনের তাড়াহুড়ো না করে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে চান তিনি।
২০২৩ সালে টটেনহ্যাম হটস্পার ছেড়ে বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দেন কেইন। এরপর জার্মান ক্লাবটির আক্রমণভাগের অন্যতম প্রধান খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি। গোল করার পাশাপাশি দলের আক্রমণভাগকে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
গত মৌসুমে বুন্দেসলিগায় দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখান কেইন। ৩১ ম্যাচে করেন ৩৬ গোল, যা জার্মান শীর্ষ লিগের ইতিহাসে এক মৌসুমে গোল করার হিসাবে তৃতীয় সর্বোচ্চ। একই মৌসুমে বায়ার্নের হয়ে লিগ ও কাপের ডাবল শিরোপা জয়ের সাফল্যও পান তিনি।
ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে গত মৌসুমে কেইনের মোট গোলসংখ্যা ছিল ৭৩। ইংল্যান্ডের হয়ে বিশ্বকাপে করা ছয়টি গোলও সেই হিসাবের অন্তর্ভুক্ত। এমন ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের কারণে ব্যালন ডি’অর জয়ের অন্যতম দাবিদার হিসেবেও তাঁর নাম আলোচনায় রয়েছে।
সব মিলিয়ে বায়ার্নে কেইনের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা এখন বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। চুক্তি নবায়ন হলে জার্মান ক্লাবটির আক্রমণভাগে আরও কয়েক বছর তাঁর অভিজ্ঞতা ও গোল করার দক্ষতা কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হবে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য দুই পক্ষের আলোচনাই এখন মূল বিষয়।