• রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৪০ অপরাহ্ন

কিয়েভের কাছে ড্রোন হামলায় নিহত ৩৭

newsline24 / ১০ Time View
Update : রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬
কিয়েভের কাছে ড্রোন হামলায় নিহত ৩৭
কিয়েভের কাছে ড্রোন হামলায় নিহত ৩৭

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের কাছে রুশ ড্রোন হামলার পর একটি গোলাবারুদের গুদামে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৩৭ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কারও অবস্থা গুরুতর কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি। ধ্বংসস্তূপ সরানো ও উদ্ধারকাজ চলতে থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শনিবার কিয়েভ অঞ্চলের বুচা জেলায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের ভাষ্য, আবাসিক এলাকার কাছাকাছি অবস্থিত ওই গুদামে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ, মাইন, সামরিক সরঞ্জাম ও ড্রোন মজুত ছিল। একটি ড্রোন সেখানে আঘাত হানার পর মজুত থাকা বিস্ফোরক ও সামরিক সরঞ্জামে একের পর এক বিস্ফোরণ ঘটে। আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের এলাকায় এবং কয়েক ঘণ্টা ধরে তা জ্বলতে থাকে।

কিয়েভ অঞ্চলের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তাকাচেঙ্কো জানান, শনিবার বিকেল পর্যন্ত ৩৭ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিস্ফোরণ ও আগুনে আশপাশের কয়েক ডজন ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকা পড়ে আছেন কি না, তা খুঁজে দেখতে উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে।

ঘটনাস্থলে ৩০০ জনের বেশি জরুরি সেবাকর্মী কাজ করছেন। আগুন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি আহতদের উদ্ধার এবং ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা থেকে মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার কাজও চলছে। গুদামে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক থাকার কারণে উদ্ধারকাজে বাড়তি ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ঘটনাটি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, মানুষের বসতবাড়ির এত কাছে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক মজুত করা উচিত হয়নি। এ ঘটনায় ফৌজদারি তদন্ত শুরু হয়েছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

হামলায় নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে স্থানীয় পৌরসভার দীর্ঘদিনের প্রধান তারাস দিদিচও রয়েছেন। হামলার খবর পাওয়ার পর স্থানীয় মানুষের সহায়তায় ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে গিয়ে হামলার ঘটনায় প্রাণ হারান এই জনপ্রতিনিধি।

এদিকে বুচা জেলায় হামলার পাশাপাশি কিয়েভ ও ইউক্রেনের অন্যান্য অঞ্চলেও রুশ বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের দাবি, টানা দুই দিনেরও বেশি সময় ধরে কিয়েভে প্রায় বিরতিহীনভাবে বিমান হামলা চালানো হচ্ছে। রাতভর দেশের বিভিন্ন এলাকাতেও হামলার খবর পাওয়া গেছে।

প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির দাবি, সাম্প্রতিক এসব হামলায় ২৬০টির বেশি আক্রমণকারী ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক ড্রোন ব্যবহারের ফলে ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর চাপ বেড়েছে।

বুচার গুদামে বিস্ফোরণের ঘটনা নতুন করে আবাসিক এলাকার কাছে সামরিক সরঞ্জাম ও বিস্ফোরক সংরক্ষণের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। একই সঙ্গে চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা কতটা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, তা-ও সামনে এসেছে। তবে গুদামে বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ, ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র এবং নিহত ও আহতের চূড়ান্ত সংখ্যা তদন্ত ও উদ্ধারকাজ শেষ হওয়ার পরই পরিষ্কার হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category