আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে দলে ভেড়াতে অ্যাস্টন ভিলার সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছেছে ইংলিশ ক্লাব চেলসি। ৭৫ লাখ পাউন্ড বা প্রায় ১২৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকার বিনিময়ে এই দলবদল সম্পন্ন হতে যাচ্ছে। চেলসিতে যোগ দেওয়ার আগে লন্ডনে তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষ হওয়ার অপেক্ষা চলছে।
আগামী সপ্তাহে ৩৪ বছরে পা দিতে যাওয়া মার্তিনেজ চেলসির সঙ্গে দুই বছরের চুক্তি করতে যাচ্ছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুক্তিতে মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানোর সুযোগ রাখা হবে। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে স্টামফোর্ড ব্রিজে নতুন অধ্যায় শুরু করবেন আর্জেন্টিনার এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক।
চেলসির গোলপোস্টে সাম্প্রতিক সময়ে রবার্ট সানচেজকে নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। প্রিমিয়ার লিগে গত সোমবার রাতে ফুলহামের বিপক্ষে ৩-২ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে সানচেজ দুটি ভুল করেন। দল ম্যাচটি জিতলেও তাঁর পারফরম্যান্স আবারও চেলসির প্রথম পছন্দের গোলরক্ষক হিসেবে সানচেজের সক্ষমতা নিয়ে পুরোনো বিতর্ক সামনে নিয়ে আসে।
এই পরিস্থিতিতে মার্তিনেজের আগমন চেলসির গোলরক্ষক বিভাগে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে। আন্তর্জাতিক ফুটবলে বড় ম্যাচের অভিজ্ঞতা এবং চাপ সামলানোর সক্ষমতার কারণে তাঁকে সরাসরি প্রথম একাদশের লড়াইয়ে এগিয়ে রাখার সম্ভাবনা রয়েছে। ইএসপিএনের তথ্য অনুযায়ী, চেলসির এক নম্বর গোলরক্ষক হওয়ার সুযোগও রয়েছে তাঁর সামনে।
চেলসির গোলরক্ষক বিভাগে তরুণ প্রতিভাও রয়েছে। স্ত্রাসবুর্গে ধারে খেলার পর মাইক পেন্ডার্স এবার চেলসির মূল দলে ফিরেছেন। ২১ বছর বয়সী এই গোলরক্ষককে দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে ক্লাবটির।
দলবদলের শুরু থেকেই চেলসি নিজেদের গোলরক্ষকদের ওপর আস্থা রাখার কথা জানিয়েছিল। কিন্তু মার্তিনেজের মতো অভিজ্ঞ একজনকে স্বল্পমেয়াদি চুক্তিতে দলে আনা হলে তরুণ পেন্ডার্সকে ধীরে ধীরে গড়ে তোলার সুযোগও তৈরি হবে। একই সঙ্গে স্কোয়াডে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়বে এবং গোলপোস্টের জন্য বিকল্পও শক্তিশালী হবে।
অ্যাস্টন ভিলার সঙ্গে মার্তিনেজের সম্পর্কের শুরু ২০২০ সালে। সে সময় আর্সেনাল থেকে ১ কোটি ৭০ লাখ পাউন্ডে ভিলা পার্কে যোগ দেন তিনি। এরপর ক্লাবটির হয়ে নিজেকে ইংলিশ ফুটবলের অন্যতম পরিচিত গোলরক্ষক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।
সাম্প্রতিক দুটি দলবদল মৌসুমে ভিলা ছাড়ার ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন মার্তিনেজ। ২০২৪-২৫ মৌসুম শেষে ভিলা পার্কে সমর্থকদের উদ্দেশে বিদায়ের ইঙ্গিত দিয়ে হাত নাড়তে দেখা যায় তাঁকে। মাঠ ছাড়ার সময় কান্নায় ভেঙেও পড়েছিলেন তিনি। তখন তাঁর ধারণা ছিল, ভিলার হয়ে সেটিই হয়তো শেষ ম্যাচ।
তবে শেষ পর্যন্ত দলবদল হয়নি। ২০২৫-২৬ মৌসুমের শুরুতে ভিলা মার্কো বিজোতকে গোলপোস্টে খেলায়। মার্তিনেজের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত থাকলেও শেষ পর্যন্ত তিনি ভিলাতেই থেকে যান এবং আবারও দলের প্রথম পছন্দের গোলরক্ষকের জায়গা ধরে রাখেন।
এরপর পরিস্থিতি বদলে যায়। গত মে মাসে ইউরোপা লিগ