• বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৪৪ অপরাহ্ন

ব্যাটারিচালিত যান নিয়ে ছয় দফা দাবি, আলাদা লেনের আহ্বান

newsline24 / ২১ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬
ব্যাটারিচালিত যান নিয়ে ছয় দফা দাবি, আলাদা লেনের আহ্বান
ব্যাটারিচালিত যান নিয়ে ছয় দফা দাবি, আলাদা লেনের আহ্বান

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলাচলকারী ব্যাটারিচালিত রিকশা, অটোরিকশা, ইজিবাইক ও স্বল্পগতির যানবাহনের জন্য পৃথক লেন, পার্কিং সুবিধা এবং চার্জিং স্টেশন স্থাপনের দাবি জানিয়েছে ‘রিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান ও ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদ’। সংগঠনটি বলছে, এসব যানবাহনকে নিষিদ্ধ বা অব্যবস্থাপনার মধ্যে না রেখে প্রশিক্ষণ, নিবন্ধন ও রুট পারমিটের আওতায় এনে একটি সমন্বিত নীতিমালার অধীনে পরিচালনা করা প্রয়োজন।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির আহ্বায়ক খালেকুজ্জামান লিপন লিখিত বক্তব্যে ছয় দফা দাবি তুলে ধরেন। তিনি জানান, দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আগামী সেপ্টেম্বরে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি দেওয়া হবে। পাশাপাশি ১০ সেপ্টেম্বর বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে সমাবেশ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে খালেকুজ্জামান লিপন বলেন, গত ১৭ আগস্ট স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এলজিআরডি ভবনে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইকসহ বিভিন্ন স্বল্পগতির যানবাহন নিয়ে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছিলেন। ওই অনুষ্ঠানে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, নির্বাহী কর্মকর্তা এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

সংগঠনটির অভিযোগ, সরকারের প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় এসব যানবাহনের উৎপাদন, চার্জিং, লাইসেন্স ও চলাচলকে অতিরিক্ত বাণিজ্যিক কাঠামোর মধ্যে নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে স্থানীয় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, চালক ও মেকানিকদের পরিবর্তে একটি নির্দিষ্ট ব্যবসায়ী গোষ্ঠী সুবিধা পেতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।

লিপন বলেন, ব্যাটারিচালিত যানবাহনকে দীর্ঘদিন ধরে যানজট, দুর্ঘটনা ও বিদ্যুৎ সংকটের জন্য দায়ী করা হলেও কেন বিপুলসংখ্যক মানুষ এসব যান চালাচ্ছেন, সেই বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে না। তাঁর দাবি, দেশে কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক মানুষ রিকশা বা ইজিবাইক চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। একইভাবে তুলনামূলক কম ভাড়া ও সহজলভ্যতার কারণে সাধারণ যাত্রীরাও এসব বাহনের ওপর নির্ভরশীল।

চার্জিং ব্যবস্থা নিয়েও সংগঠনটির বক্তব্য রয়েছে। তাদের দাবি, বিদ্যুতের ব্যবহার ও লোডশেডিংয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অনেক চালক রাতে ব্যাটারি চার্জ দেন। ফলে সমস্যাটিকে শুধু বিদ্যুৎ সংকট বা লোডশেডিংয়ের সঙ্গে যুক্ত না করে পরিকল্পিত চার্জিং অবকাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।

সংগ্রাম পরিষদ জানিয়েছে, গত ১৩ বছর ধরে তারা ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজিবাইকসহ স্বল্পগতির যানবাহনের জন্য বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) অধীনে একটি সমন্বিত নীতিমালার দাবি জানিয়ে আসছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, যানজট কমানো, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো এবং চালক-যাত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই ছিল এ আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য। আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে বরিশাল, চট্টগ্রাম, সিলেট ও দিনাজপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় সংগঠনের নেতাকর্মীদের মামলা ও কারাবরণের ঘটনাও ঘটেছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

ছয় দফা দাবিতে যা আছে

সংগঠনটির প্রথম দাবি, প্রশিক্ষণ, নিবন্ধন ও রুট পারমিটের আওতায় এনে ব্যাটারিচালিত যানবাহনের জন্য একটি সমন্বিত নীতিমালা ও বিধিমালা চূড়ান্ত করা। একই সঙ্গে স্থানীয় অটোমোবাইল শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

দ্বিতীয় দাবিতে স্থানীয় উৎপাদকদের সরকারি অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী ই-রিকশা উৎপাদন ও বাজারজাতের সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। স্থানীয় মেকানিকদের আধুনিক প্রযুক্তির ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বা সিন্ডিকেটকে একচেটিয়া সুবিধা না দেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

তৃতীয় দাবিতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পার্কিং ও চার্জিং স্টেশন স্থাপনের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব লিথিয়াম ব্যাটারিতে রূপান্তরের ক্ষেত্রে সরকারি ভর্তুকি চাওয়া হয়েছে।

চতুর্থ দাবিতে লাইসেন্স, নিবন্ধন ও নবায়নের ক্ষেত্রে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করে ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার বাধ্যতামূলক শর্ত প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়েছে। সংগঠনটির মতে, সৌরবিদ্যুৎভিত্তিক চার্জিং ব্যবস্থা অনেক ক্ষেত্রে ব্যয়বহুল এবং পর্যাপ্ত আলো না থাকায় এর ব্যবহারেও বাস্তব সমস্যা রয়েছে।

পঞ্চম দাবিতে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজিবাইক, পাখিসহ অন্যান্য যানবাহনকে সরকার অনুমোদিত নকশার সঙ্গে সামঞ্জস্য করতে অন্তত দুই বছর সময় দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

ষষ্ঠ ও শেষ দাবিতে মহাসড়কগুলোতে স্বল্পগতির ও স্থানীয় যানবাহনের জন্য পৃথক লেন অথবা সার্ভিস রোড নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সংগঠনটির মতে, দ্রুতগতির যানবাহন ও ধীরগতির যানকে একই পথে চলতে হলে সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়ে এবং যান চলাচলেও বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। তাই অবকাঠামোগত সমাধানের মাধ্যমে এসব যানবাহনের চলাচল ব্যবস্থাপনা করা প্রয়োজন।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ব্যাটারিচালিত যানবাহনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে হলে শুধু নিয়ন্ত্রণ বা নিষেধাজ্ঞার দিকে না গিয়ে চালক, যাত্রী, স্থানীয় উৎপাদক এবং সড়ক ব্যবস্থাপনার বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে একটি কার্যকর নীতিমালা তৈরি করতে হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category