মাদারীপুরের রাজৈরে এক তরুণ-তরুণীর প্রেমের সম্পর্কে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজৈর পৌরসভার পূর্ব স্বরমঙ্গল গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে নেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে দুজনের অবস্থা বিবেচনায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আগের রাতের বিরোধ থেকে সংঘর্ষ
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার রাতে রাজৈর পৌর এলাকার হৃদয় নন্দী গ্রামের গুচ্ছ গ্রামের সাবেক কাউন্সিলর আজিজুল রহমান হাওলাদার রাহিমের লোকজনের সঙ্গে পূর্ব স্বরমঙ্গল গ্রামের জাকারিয়া খালাশির লোকজনের কথা-কাটাকাটি হয়।
এক জোড়া তরুণ-তরুণীর প্রেমের আলাপে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করেই এই বিরোধের সূত্রপাত বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র। রাতে তর্ক-বিতর্ক হলেও তখন বিষয়টি বড় ধরনের সংঘর্ষে গড়ায়নি।
তবে পরদিন সকালে আগের বিরোধের জের ধরে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে পূর্ব স্বরমঙ্গল ও হৃদয় নন্দী গ্রামের লোকজনের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়।
ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ, আহত অন্তত ১০
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা গেছে, প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। তাঁদের মধ্যে ইয়ার আলী ও আক্কাসসহ কয়েকজনের নাম জানা গেছে। আহতদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে।
সংঘর্ষের পর স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। অন্য আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে রাজৈর থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশের উপস্থিতির পর দুই পক্ষের লোকজন ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
এলাকায় এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক
রাজৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আমিনুল ইসলাম বলেন, সংঘর্ষের খবর পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, একটি ব্যক্তিগত সম্পর্ককে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিরোধ কীভাবে দুই গ্রামের মানুষের মধ্যে সংঘর্ষে রূপ নিল, তা নিয়ে এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ ধরনের ঘটনা যাতে আবার না ঘটে, সে জন্য স্থানীয়ভাবে বিরোধের মীমাংসা ও পরিস্থিতি শান্ত রাখার উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন তাঁরা।
এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মামলা বা গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় নজর রাখা হচ্ছে।