• শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৫১ অপরাহ্ন

বোনের হত্যার অভিযোগে দুলাভাইকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা

newsline24 / ১১ Time View
Update : শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বোনের হত্যার অভিযোগে দুলাভাইকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা
বোনের হত্যার অভিযোগে দুলাভাইকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা

ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত এক ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহত চিত্তারি হরিবাবু (২৬) ওই মামলায় গ্রেপ্তারের পর জামিনে মুক্ত ছিলেন। অভিযোগ উঠেছে, স্ত্রীর ভাই সন্তোষই প্রতিশোধ নিতে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে নিজামাবাদে রাস্তার পাশের একটি খাবারের দোকানের কাছে হরিবাবুর ওপর হামলা চালানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে পুলিশ জানায়, একটি গাড়িতে করে তিন থেকে চারজন সেখানে আসে। তাদের মধ্যে একজন গাড়ি থেকে নেমে ডাব কাটার দা দিয়ে হরিবাবুর ঘাড় ও মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত করেন। গুরুতর আঘাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

হামলার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নিজামাবাদের গভর্নমেন্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

এর আগে চলতি বছরের ১৭ মার্চ জগতিয়াল জেলায় চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা ইউটিউবার গন্ধম বৈষ্ণবীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। বৈষ্ণবীর পরিবারের অভিযোগ ছিল, অতিরিক্ত যৌতুকের দাবিতে তাকে নির্যাতন করা হচ্ছিল। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ের করা মামলায় হরিবাবুকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে জুলাইয়ে তিনি জামিনে মুক্তি পান।

বৈষ্ণবীর মৃত্যুর কয়েক মাস পরই তার স্বামী হরিবাবু হত্যার শিকার হন। এ ঘটনার পেছনে বৈষ্ণবীর ভাই সন্তোষ জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে।

হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি সেলফি ভিডিওতেও সন্তোষকে কথা বলতে দেখা যায়। সেখানে তিনি বোনকে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে হত্যা করার দাবি করেন। সন্তোষের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি সরকারি বিচারের অপেক্ষা করেও সন্তুষ্টজনক কোনো ফল পাননি। অন্য একটি কাজে যাওয়ার সময় নিজামাবাদে হরিবাবুকে দেখতে পেয়ে তিনি হামলা চালান বলেও ভিডিওতে দাবি করেন।

সন্তোষ আরও দাবি করেন, নিজের নিরাপত্তার জন্য তিনি অস্ত্র সঙ্গে রেখেছিলেন এবং ঘটনার পর পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করবেন। একই সঙ্গে স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে উল্লেখ করে মৃত্যুদণ্ড এড়াতে জনগণের সহযোগিতাও চান তিনি।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির সত্যতা এবং সন্তোষের বক্তব্যের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সরাসরি যোগসূত্র পুলিশ এখনো যাচাই করছে। ফলে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হত্যার উদ্দেশ্য ও হামলায় কারা কারা জড়িত ছিলেন, সে বিষয়ে চূড়ান্তভাবে কিছু বলা হয়নি।

একজন গর্ভবতী নারীর মৃত্যুর অভিযোগের পর তার স্বামীর ওপর প্রকাশ্য হামলা—পরপর ঘটে যাওয়া এই দুই ঘটনায় তেলেঙ্গানায় ব্যাপক আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ এখন উভয় ঘটনার প্রেক্ষাপট, পারিবারিক বিরোধ এবং প্রতিশোধের অভিযোগ—সবকিছু সামনে রেখে তদন্ত এগিয়ে নিচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category