রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ইন্দিরা রোডে তেজগাঁও কলেজ জামে মসজিদে অভিযান চালিয়ে ২৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। জঙ্গি কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সন্দেহে তাদের আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে আটক ব্যক্তিদের কোনো জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মসজিদের দ্বিতীয় তলায় এ অভিযান চালানো হয়। পুলিশের ভাষ্য, সেখানে একটি দল ‘মিট-আপ’ বা বৈঠকে অংশ নিচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই বৈঠক সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার পর বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পুলিশের একটি বিশেষ বার্তায় বলা হয়েছে, শিহাব উদ্দিন নামে এক ব্যক্তির নেতৃত্বে ওই স্থানে ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি দল অবস্থান করছিল। তাদের জঙ্গি কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সন্দেহ থেকেই অভিযান চালানো হয়। অভিযান শেষে সেখান থেকে ২৩ জনকে আটক করা হয়।
অভিযানের সময় ঘটনাস্থলে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে ঘটনাস্থলে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের সদস্যদেরও দেখা যায়। আটক ব্যক্তিদের পরিচয়, তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং বৈঠকের উদ্দেশ্য সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মসজিদে চলা বৈঠক থেকে ২৩ জনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের সন্দেহজনক জঙ্গি কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিরা কোনো নির্দিষ্ট সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অভিযোগ বা জঙ্গি কার্যক্রমে সম্পৃক্ততার প্রমাণ রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যাচাই-বাছাই শেষে এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ফলে শুধু আটক হওয়ার ভিত্তিতে ওই ব্যক্তিদের জঙ্গি হিসেবে চূড়ান্তভাবে চিহ্নিত করা হয়নি; তদন্ত ও যাচাইয়ের ফলাফলের ওপর বিষয়টি নির্ভর করবে।
অভিযানের পর মসজিদ ও আশপাশের এলাকার পরিস্থিতিও নজরদারিতে রেখেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হলেও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য যাচাই শেষে পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে জানানো হতে পারে।