বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, একটি দেশের অগ্রগতি ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো মানসম্মত শিক্ষা। তাঁর দাবি, গত ১৭ বছরে দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে যথাযথ গুরুত্ব না দিয়ে নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এর মান ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে।
শনিবার কেরানীগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজে এসএসসি পরীক্ষায় কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, কোনো জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণে শিক্ষার গুরুত্ব অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে দেশের শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন পর্যায়ে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা হয়েছে। এর নেতিবাচক প্রভাব শুধু শিক্ষার্থীদের ওপর নয়, সামগ্রিকভাবে জাতির ওপরও পড়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, এমন পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছিল যখন প্রশ্নপত্রে শুধু প্রশ্ন থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করা হলেও শিক্ষার প্রকৃত মান ও মূল্যায়ন নিয়ে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তাঁর ভাষ্য, ক্ষমতাশালী মহল থেকে ফোন করে শিক্ষার্থীদের পাস করিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগের ঘটনাও ঘটেছে। এ ধরনের হস্তক্ষেপের ফলে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ও মূল্যায়ন ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
রিজভী বলেন, বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তি ও জ্ঞানভিত্তিক প্রতিযোগিতা দ্রুত বাড়ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তথ্যপ্রযুক্তি ও অন্যান্য আধুনিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জন ছাড়া নতুন প্রজন্মের সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়বে। তাই শিক্ষার্থীদের কেবল প্রচলিত পাঠ্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রযুক্তিনির্ভর ও বাস্তবমুখী জ্ঞান অর্জনের সুযোগ দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম, অবকাঠামো ও উপযুক্ত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। শিক্ষার্থীদের মেধা ও প্রতিভা বিকাশে পর্যাপ্ত সুযোগ তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষায় বিনিয়োগ ও প্রণোদনা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে নারীর শিক্ষা ও ক্ষমতায়নের বিষয়টিও তুলে ধরেন রিজভী। তিনি দাবি করেন, বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকাকালে নারীর শিক্ষা ও ক্ষমতায়নকে গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। নারীদের শিক্ষার সুযোগ আরও বিস্তৃত করার প্রয়োজন রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
রিজভী বলেন, বিএনপির সরকারপ্রধান তারেক রহমান নারীদের জন্য অবৈতনিক শিক্ষার সুযোগ স্নাতক (অনার্স) পর্যায় পর্যন্ত সম্প্রসারণের কথা বলেছেন। তাঁর মতে, নারীদের শিক্ষিত ও দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারলে এর সুফল শুধু একজন নারীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়বে।
শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে হবে। শিক্ষাকে অগ্রাধিকার না দিলে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ ও প্রণোদনা নিশ্চিত না করলে দেশের কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
অনুষ্ঠানে কেরানীগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। পরে এসএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়।