সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে তিন সন্তানকে নিয়ে কীটনাশক পান করার অভিযোগ উঠেছে এক বাবার বিরুদ্ধে। এতে ১০ ও ৭ বছর বয়সী দুই সন্তান এবং মাত্র ২ বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাদের বাবা সরাফত আলীকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের রজনীলাইন গ্রামে মর্মান্তিক এ ঘটনা ঘটে।
নিহত তিন শিশু হলো—রজনীলাইন গ্রামের সরাফত আলীর মেয়ে মাওয়া আক্তার (১০), ছেলে শামিম মিয়া (৭) ও তামিম মিয়া (২)। তাদের বাবা সরাফত আলীর বয়স ৩৫ বছর। ঘটনার পর থেকে এলাকায় শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সরাফত আলীর স্ত্রী ফাতেমা বেগম তিন দিন আগে সৌদি আরবে যান। তার বিদেশে যাওয়া নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য চলছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে ঠিক কী কারণে সরাফত আলী সন্তানদের নিয়ে এমন চরম সিদ্ধান্ত নিলেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে সরাফত আলী তার তিন সন্তানকে নিয়ে একই ঘরে ঘুমাতে যান। রাত আনুমানিক ১টার দিকে তিনি সন্তানদের সঙ্গে কীটনাশক পান করেন বলে জানা গেছে। পরে বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি ময়মনসিংহে থাকা এক ফুফুকে ফোন করেন। ফোনে তিনি ঘটনার কথা জানান এবং পরিবারের সদস্যদের কাছে ক্ষমা চান।
বিষয়টি জানতে পেরে তার ফুফু দ্রুত রজনীলাইনে থাকা সরাফত আলীর ছোট ভাই রহমত আলীকে খবর দেন। এরপর রহমত আলীসহ পরিবারের লোকজন দ্রুত ওই বাড়িতে পৌঁছে ঘরের দরজা ভেঙে চারজনকে উদ্ধার করেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তিন শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন। সরাফত আলীর অবস্থাও গুরুতর হওয়ায় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এদিকে, শিশুদের মরদেহ তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমদ জানিয়েছেন, সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর মরদেহগুলো সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। কীভাবে কীটনাশক সংগ্রহ করা হয়েছিল, ঘটনার আগে পরিবারের মধ্যে কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল এবং শিশুদের কীভাবে বিষপান করানো হয়—এসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় আসতে পারে।
একটি পরিবারের অভ্যন্তরীণ সংকট কীভাবে এত বড় трагেডিতে রূপ নিল, তা এখন তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। তিন শিশুর মৃত্যুতে রজনীলাইন গ্রামে নেমে এসেছে গভীর শোক। একই সঙ্গে গুরুতর অসুস্থ সরাফত আলীর চিকিৎসা ও ঘটনার পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার দিকে নজর রাখছে পরিবার ও স্থানীয় প্রশাসন।