কুমিল্লার লালমাইয়ে আব্দুর রশিদ (৩৪) নামে এক ট্রাকচালককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের বিরুদ্ধে। মাদকসংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে তিনজনকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে তুলে দিয়েছেন স্থানীয়রা।
বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের হরিশ্চর রেলগেট এলাকা থেকে আব্দুর রশিদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে শুক্রবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহত আব্দুর রশিদ লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই গ্রামের আবুল কালামের ছেলে। স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, যাদের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে, তাদের সঙ্গে রশিদের ঘনিষ্ঠতা ছিল।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের হাতে আটক হওয়া তিনজন হলেন—নিশ্চিন্তপুর গ্রামের আলী আক্কাছের ছেলে মহিন উদ্দিন (৩৪), উৎসবপদুয়া গ্রামের রৌশন আলীর ছেলে মো. রাকিব (২৫) এবং মেঘনা উপজেলার শিবনগর গ্রামের মনির হোসেনের ছেলে আল আমিন (৩৬)। স্থানীয়রা তাদের গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
লালমাই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল্লাহ আল ফারুক জানান, আব্দুর রশিদকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তার শরীর ও মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, হত্যাকাণ্ডের পেছনে মাদকসংক্রান্ত কোনো বিরোধ ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। নিহত ব্যক্তি ও অভিযুক্তরা ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন বলেও জানান তিনি।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে স্থানীয়দের হাতে আটক তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে হত্যার সঠিক কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে প্রত্যেকের সম্পৃক্ততা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।
ঘটনাটি ঘিরে হরিশ্চর রেলগেট ও আশপাশের এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে জড়িতদের ভূমিকা স্পষ্ট করার চেষ্টা চলছে।