পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে গত তিন দিনে নিরাপত্তা বাহিনীর একাধিক গোয়েন্দাভিত্তিক অভিযানে ৪৮ জন ‘সন্ত্রাসী’ নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে দেশটির সামরিক বাহিনী। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
আইএসপিআরের বিবৃতি অনুযায়ী, বেলুচিস্তানের মাস্তুং, কোয়েটা, কালাত ও সিবি এলাকায় এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়। এর মধ্যে কোয়েটার শাবান এলাকায় চালানো অভিযানেই সবচেয়ে বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে পাকিস্তানি বাহিনী।
সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ৪ সেপ্টেম্বর মাস্তুং এলাকায় একটি গোয়েন্দাভিত্তিক অভিযান চালানো হয়। ওই অভিযানে ছয়জন ‘সন্ত্রাসী’ নিহত হন বলে দাবি করা হয়েছে। আইএসপিআর তাদের ভারত-সমর্থিত বলে উল্লেখ করেছে। অভিযানের সময় অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত এবং স্থানীয়ভাবে তৈরি বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয় বলেও জানিয়েছে বাহিনী। পরে উদ্ধার করা এসব বিস্ফোরক ও অন্যান্য সামগ্রী ধ্বংস করা হয়েছে বলে বিবৃতিতে বলা হয়।
এরপর কোয়েটার শাবান এলাকায় একাধিক স্থানে অভিযান চালায় নিরাপত্তা বাহিনী। আইএসপিআর জানায়, সেখানে চারটি কথিত সন্ত্রাসী আস্তানায় অভিযান চালিয়ে ২৬ জনকে হত্যা করা হয়েছে। একই এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান নিয়ে সামরিক বাহিনী আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।
বেলুচিস্তানের কালাত এলাকাতেও একটি কথিত সন্ত্রাসী আস্তানায় অভিযান চালানো হয় বলে জানিয়েছে আইএসপিআর। সেখানে আরও দুজন নিহত হয়েছেন। নিহতদেরও ভারত-সমর্থিত ‘সন্ত্রাসী’ বলে দাবি করেছে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী।
এ ছাড়া সিবির ভাগ এলাকায় পৃথক আরেকটি অভিযানে আরও দুজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আইএসপিআর। এসব অভিযানকে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযান হিসেবে বর্ণনা করেছে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী।
আইএসপিআরের হিসাবে, চলতি ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত বেলুচিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর বিভিন্ন অভিযানে ১ হাজার ১৮৮ জনের বেশি ‘সন্ত্রাসী’ নিহত হয়েছেন। তবে এই সংখ্যার মধ্যে কোন কোন সংগঠনের সদস্য রয়েছেন, নিহতদের পরিচয় কী এবং পৃথক অভিযানগুলোতে কী পরিমাণ অস্ত্র বা বিস্ফোরক উদ্ধার হয়েছে—এসব বিষয়ে বিবৃতিতে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
বেলুচিস্তানে দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উত্তেজনা রয়েছে। অঞ্চলটিতে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা মোকাবিলায় পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এসব অভিযানে হতাহতের ঘটনা নিয়ে প্রায়ই পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য দেখা যায়।
এদিকে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ‘আজম-ই-ইস্তেহকাম’ উদ্যোগের আওতায় সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে। শেষ ‘সন্ত্রাসী’ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানিয়েছে তারা।
তবে বেলুচিস্তানে সাম্প্রতিক এসব অভিযানে ৪৮ জন নিহত হওয়ার দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। নিহতদের পরিচয়, তারা কোন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং অভিযানের পরিস্থিতি সম্পর্কে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর বিবৃতির বাইরে স্বাধীন কোনো তথ্যও প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।