কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ফের হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, কুয়েতের আহমেদ আল-জাবের বিমান ঘাঁটি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল মিনহাদ বিমান ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে।
ইরানি সামরিক বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, হামলায় ঘাঁটি দুটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। এর মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা, সামরিক সরঞ্জাম সংরক্ষণের গুদাম, যুদ্ধবিমান রাখার হ্যাঙ্গার এবং রাডার ব্যবস্থা রয়েছে। হামলার উদ্দেশ্য ছিল এসব সামরিক স্থাপনার সক্ষমতায় আঘাত হানা বলে ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
তবে হামলায় ঘাঁটি দুটির কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। একইভাবে হামলায় কোনো হতাহত হয়েছে কি না, সে বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ইরানের দাবি করা হামলার প্রকৃত প্রভাব সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট কোনো চিত্র পাওয়া যায়নি।
এদিকে ইরানের সর্বশেষ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে কুয়েত। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কুয়েতের ভূখণ্ডে এ ধরনের হামলা দেশটির সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন। একই সঙ্গে কুয়েতের নিরাপত্তা এবং দেশটির নাগরিক ও বাসিন্দাদের জন্য এটিকে সরাসরি হুমকি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
কুয়েতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে ইরানের হামলাকে আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘ সনদের সরাসরি লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছে। দেশটির বক্তব্য, কোনো দেশের ভূখণ্ডে সামরিক হামলা চালানোর মতো পদক্ষেপ আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্যও গুরুতর উদ্বেগ তৈরি করে।
ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাত—দুই দেশেই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি রয়েছে। ফলে এসব ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
তবে এখন পর্যন্ত হামলায় ক্ষয়ক্ষতি, হতাহত এবং সামরিক স্থাপনাগুলোর ওপর এর প্রকৃত প্রভাব সম্পর্কে স্বাধীনভাবে বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি।