নড়াইল সদর উপজেলায় হেফজ বিভাগের ছয় শিশুশিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে মাহবুবুর রহমান (২৫) নামে এক মাদরাসাশিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এক ভুক্তভোগী শিশুর মায়ের করা মামলার ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকার গাছা থানা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দাবি, মামলা হওয়ার প্রায় ১০ ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করা সম্ভব হয়েছে।
গ্রেপ্তার মাহবুবুর রহমান নড়াইল সদর উপজেলার মাইজপাড়া ইউনিয়নের বলরামপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি আলমগীর হোসেনের ছেলে এবং নড়াইল পৌরসভার একটি মাদরাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ আগস্ট শুক্রবার বিকেলে মাদরাসায় থাকা সন্তানকে দেখতে ডুমরতলা গ্রামে যান এক শিশুর মা। সেখানে তার আট বছর বয়সী সন্তান মাকে জানায়, আগের রাতে অর্থাৎ ২৭ আগস্ট বৃহস্পতিবার রাতে মাদরাসার শিক্ষক মাহবুবুর রহমান তাকে ধর্ষণ করেছেন।
সন্তানের কাছ থেকে বিষয়টি জানার পর ওই নারী তাৎক্ষণিকভাবে মাদরাসা কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। পরে কর্তৃপক্ষ শিশুটির সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে সে তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া বিষয়টি বিস্তারিতভাবে জানায়।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর মাদরাসায় থাকা আরও পাঁচ শিশুছাত্রও একই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তোলে। অর্থাৎ, প্রাথমিকভাবে মোট ছয় শিশুর কাছ থেকে একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া যায়। তবে এসব অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ সত্যতা তদন্ত ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর মাহবুবুর রহমান আত্মগোপনে চলে যান বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে ভুক্তভোগী এক শিশুর মা ৫ সেপ্টেম্বর শনিবার নড়াইল সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।
মামলা দায়েরের পর অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও অবস্থান শনাক্তের মাধ্যমে গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকার গাছা থানায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকেই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মাহবুবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুণ্ডু জানান, এক ভুক্তভোগী শিশুর মা তার সন্তানকে ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে থানায় আসেন। অভিযোগের ভিত্তিতে নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত শিক্ষককে মামলা হওয়ার ১০ ঘণ্টার মধ্যে গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, গ্রেপ্তার মাহবুবুর রহমানকে আদালতে সোপর্দ করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মামলার তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের বিস্তারিত তথ্য যাচাই করা হবে।
শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর হওয়ায় এ ধরনের মামলায় ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা, শারীরিক পরীক্ষা, মানসিক সহায়তা এবং আইনগত সুরক্ষার বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই মামলায় ভুক্তভোগী শিশুদের বিষয়ে পরিচয় প্রকাশ না করার বিষয়ে সতর্কতা প্রয়োজন, যাতে তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার পাশাপাশি তাদের সামাজিক ও মানসিক নিরাপত্তাও বজায় থাকে।