• রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:২২ অপরাহ্ন

সিফাতের ১০ হাজার টাকার বিদ্যুৎ বিলের দাবিতে মিলল ভিন্ন তথ্য

newsline24 / ১৮ Time View
Update : রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সিফাতের ১০ হাজার টাকার বিদ্যুৎ বিলের দাবিতে মিলল ভিন্ন তথ্য
সিফাতের ১০ হাজার টাকার বিদ্যুৎ বিলের দাবিতে মিলল ভিন্ন তথ্য

গাজীপুরে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল আসার অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও প্রকাশ করে আলোচনায় আসা কলেজছাত্র সিফাত আব্দুল্লাহর অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করেছে গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১। তদন্তে তার পরিবারের বাড়িতে থাকা তিনটি আবাসিক মিটারের বিল পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, একটি মিটারে নয়—দুটি মাসে তিনটি মিটার মিলিয়ে ১০ হাজার টাকার বেশি বিল পরিশোধ করা হয়েছে।

সিফাত আব্দুল্লাহর অভিযোগ ছিল, জুলাই ও আগস্ট—এই দুই মাসে তাকে প্রায় ১০ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল দিতে হয়েছে। এ নিয়ে তিনি ফেসবুকে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। ভিডিওতে প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ভাষায় বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

সিফাতের গ্রেপ্তারের ঘটনায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও জামায়াতে ইসলামী ক্ষোভ প্রকাশ করে তার মুক্তি দাবি করেছে। এর মধ্যেই বিদ্যুৎ বিল নিয়ে করা অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু করে গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে শুরু হওয়া ওই তদন্তে কর্মকর্তারা সিফাতের বাবা মো. সেকান্দার আলীর গাজীপুর মহানগরীর ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের দোতলা বাড়িতে তিনটি আবাসিক বিদ্যুৎ মিটার থাকার তথ্য পান। তিনটি মিটারের গত চার মাসের বিল ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব পর্যালোচনা করা হয়।

প্রথম মিটারটির হিসাবে দেখা যায়, মে মাসে ৪৫ ইউনিটের জন্য বিল এসেছে ৩১৭ টাকা। জুনে ৫০ ইউনিটে ৩৪২ টাকা, জুলাইয়ে ১৫০ ইউনিটে ১ হাজার ১৮২ টাকা এবং আগস্টে ৭৫ ইউনিটে ৫১৩ টাকা বিল হয়েছে। অর্থাৎ মে থেকে আগস্ট পর্যন্ত চার মাসে এই মিটারে মোট ৩২০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে এবং বিল এসেছে ২ হাজার ৩৫৪ টাকা।

দ্বিতীয় মিটারটিতে বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ ছিল তুলনামূলক বেশি। মে মাসে ২৫০ ইউনিটের জন্য ১ হাজার ৮১২ টাকা, জুনে ২০০ ইউনিটের জন্য ১ হাজার ৫৮৪ টাকা, জুলাইয়ে ৪০০ ইউনিটের জন্য ৩ হাজার ৫৯৪ টাকা এবং আগস্টে ২৮৫ ইউনিটের জন্য ২ হাজার ৩৯৭ টাকা বিল এসেছে। চার মাসে এই মিটারে মোট ১ হাজার ১৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে এবং বিল হয়েছে ৯ হাজার ৩৮৭ টাকা।

তৃতীয় মিটারে মে মাসে ১২৫ ইউনিটের জন্য ৮৪৭ টাকা, জুনে ১২০ ইউনিটে ৬৯০ টাকা, জুলাইয়ে ২০৫ ইউনিটে ১ হাজার ৬৩৩ টাকা এবং আগস্টে ১৭৫ ইউনিটে ১ হাজার ৩৬২ টাকা বিল এসেছে। চার মাসে এই মিটারে মোট ৬২৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে বিল হয়েছে ৪ হাজার ৫৩২ টাকা।

সব মিলিয়ে মে থেকে আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত তিনটি মিটারে মোট ২ হাজার ৮০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে। এ সময়ে তিন মিটারের মোট বিল দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ২৭৩ টাকা।

জুলাই ও আগস্টের হিসাব আলাদা করে দেখলে তিনটি মিটারে মোট বিলের পরিমাণ দাঁড়ায় ১০ হাজার ৬৮১ টাকা। ফলে সিফাতের ‘দুই মাসে প্রায় ১০ হাজার টাকা’ বিল দেওয়ার বক্তব্য পুরোপুরি ভিত্তিহীন নয়; তবে পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, ভিডিওটি দেখলে এমন ধারণা তৈরি হতে পারে যে একটি মিটারেই দুই মাসে প্রায় ১০ হাজার টাকা বিল এসেছে। বাস্তবে ওই অর্থ তিনটি মিটারের সম্মিলিত বিল।

গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ-১-এর বোর্ডবাজার জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক মো. আহসান কবীর বলেন, সিফাত তার ভিডিওতে জুলাই ও আগস্ট মাসে প্রায় ১০ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল দেওয়ার কথা বলেছেন। কিন্তু ওই দুই মাসের বিল তিনটি মিটারের সম্মিলিত হিসাব।

পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তারা সিফাতের বাড়িতে গিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রের তালিকা সংগ্রহ করতে চেয়েছিলেন বলেও জানান আহসান কবীর। তার ভাষ্য, পরিবারের পক্ষ থেকে এতে সাড়া দেওয়া হয়নি এবং কর্মকর্তারা বাড়িতে যাওয়ার পর গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়।

কর্মকর্তাদের মতে, একটি বাড়িতে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার বেশি হলে বিদ্যুৎ খরচও বাড়তে পারে। তাই বিলের পরিমাণ যাচাইয়ের ক্ষেত্রে মিটারের রিডিংয়ের পাশাপাশি বাড়িতে কী ধরনের ও কতগুলো বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহার হচ্ছে, সেটিও দেখা প্রয়োজন।

তবে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিল নিয়ে সিফাতের পরিবারের কোনো আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে তা গুরুত্বের সঙ্গে পরীক্ষা করে দেখা হবে।

অন্যদিকে, সিফাত আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে বিদ্যুৎ বিল নিয়ে অভিযোগের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছে। গাজীপুরের বোর্ডবাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার ২৫ বছর বয়সী সিফাতকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এ ঘটনায় একদিকে বিদ্যুৎ বিল নিয়ে তার করা অভিযোগের বাস্তবতা নিয়ে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের তদন্তের ফল সামনে এসেছে, অন্যদিকে তার গ্রেপ্তার নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category