ছয় দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন করা না হলে তা এক দফার আন্দোলনে পরিণত হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেছেন, এক দফা বলতে সরকারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলার কথাই বোঝানো হচ্ছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ফেনীর মহিপালে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত এক পথসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় বর্তমান সরকারের অদক্ষতা ও অব্যবস্থাপনা এখন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তার দাবি, জনগণের ৭০ শতাংশ গণরায় সরকার অমান্য করেছে। এ কারণে জনগণের প্রতি সরকারের আর কোনো আস্থা নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পথসভায় দেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের সমালোচনা করে এনসিপির এই নেতা বলেন, জনকল্যাণের স্বার্থে উত্থাপিত ছয় দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। এসব দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে আন্দোলনের পরিধি আরও বাড়বে এবং শেষ পর্যন্ত তা এক দফার দাবিতে রূপ নিতে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে নিহত ওসমান হাদিসহ অন্যান্য হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়েও বক্তব্য দেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, এসব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথের আন্দোলন থেকে সরে যাবেন না।
দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার বিষয়েও তরুণদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি। তার বক্তব্য, সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। ভবিষ্যতের বাংলাদেশ শহীদদের আত্মত্যাগ এবং ন্যায়-ইনসাফের ভিত্তিতে গড়ে উঠবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
১১ দলীয় ঐক্যের আয়োজিত ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ কর্মসূচিতে ছয়টি দাবিকে সামনে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ, জুলাই গণহত্যার বিচার, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, জ্বালানি ও সার সংকটের সমাধান এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনে দলীয়করণ বন্ধ করা।
ফেনীর মহিপালে অনুষ্ঠিত পথসভায় ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন ফেনী জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মুফতি মাওলানা আব্দুল হান্নান। সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির জেলা সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুর রহিম।
পথসভায় আরও বক্তব্য দেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান ভূঁইয়া মঞ্জু এবং জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ ১১ দলীয় ঐক্যের অন্যান্য নেতারা।
লংমার্চ কর্মসূচিকে ঘিরে দেওয়া বক্তব্যে নেতারা ছয় দফা দাবির বাস্তবায়নে সরকারের প্রতি চাপ সৃষ্টির কথা তুলে ধরেন। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্যে বিশেষভাবে উঠে আসে—দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে আন্দোলন আর ছয় দফার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; তা সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে রূপ নিতে পারে।