চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় দ্রুতগতির একটি ট্রলির ধাক্কায় ফারিয়া নামে তিন বছরের এক শিশু নিহত হয়েছে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার ছেংগারচর বাজারের সুরুজ প্লাজার সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। অভিযোগ উঠেছে, অন্য একটি যানবাহনকে ওভারটেক করতে গিয়ে ট্রলিটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে উঠে শিশুটিকে চাপা দেয়।
নিহত ফারিয়া উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের প্রবাসী কাউসারের মেয়ে। সকালে মায়ের সঙ্গে বাজারে যাওয়ার সময় সে সড়কের পাশ দিয়ে হাঁটছিল। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটি মূল সড়কের একেবারে ওপর ছিল না; বরং রাস্তার পাশের কিছুটা দূরে অবস্থান করছিল। এমন সময় একটি ট্রলি দ্রুতগতিতে এসে সামনে থাকা অন্য একটি যানবাহনকে ওভারটেক করার চেষ্টা করে।
ওভারটেক করার সময় ট্রলিটির গতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। একপর্যায়ে সেটি সড়কের পাশের অংশে উঠে গিয়ে শিশু ফারিয়াকে চাপা দেয়। এতে গুরুতর আহত হয় শিশুটি।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত ফারিয়াকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মাত্র তিন বছর বয়সী শিশুর এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের মাতম শুরু হয়। স্থানীয়দের মধ্যেও নেমে আসে শোকের ছায়া।
দুর্ঘটনার পর ট্রলিটি আটক করা হয়েছে। তবে এর চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পুলিশ জানিয়েছে, চালককে শনাক্ত করে আটকের চেষ্টা চলছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ছেংগারচর বাজারসহ আশপাশের সড়কে ট্রলিসহ বিভিন্ন যানবাহন অনেক সময় অতিরিক্ত গতিতে চলাচল করে। বিশেষ করে ব্যস্ত এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণভাবে ওভারটেকিংয়ের কারণে পথচারীদের জন্য দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। তাদের দাবি, সড়কে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ চালনার বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
মতলব উত্তর থানা পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। নিহত শিশুর লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রলিটি আটক করা হয়েছে। চালক পালিয়ে গেলেও তাকে শনাক্ত ও আটকের জন্য পুলিশ কাজ করছে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, দুর্ঘটনার ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ ও দায় নির্ধারণে তদন্তের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
শিশু ফারিয়ার মৃত্যু আবারও ব্যস্ত সড়কের পাশে পথচারী, বিশেষ করে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখে দায়ী চালকের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা ঠেকাতে সড়কে নজরদারি বাড়ানো হবে।