ভারতের ক্রিকেটে নতুন এক প্রজন্মের আগমনের ইঙ্গিত মিলেছে। দেশটির দুই সাবেক তারকা রাহুল দ্রাবিড় ও বীরেন্দর শেবাগের ছেলেরা এবার একই সময়ে ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দলে জায়গা পেয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে ঘরের মাঠে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের স্কোয়াডে রাখা হয়েছে আর্যবীর শেবাগ ও অন্বয় দ্রাবিড়কে।
শেবাগপুত্র আর্যবীরের জন্য এটি ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দলে প্রথম ডাক। ডানহাতি এই ব্যাটার ইতোমধ্যে ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজের সামর্থ্যের কিছুটা জানান দিয়েছেন। চলতি ২০২৬ সালের দিল্লি প্রিমিয়ার লিগে তিনি ওয়েস্ট দিল্লি লায়ন্সের হয়ে খেলছেন।
এরও আগে ২০২৪ সালের কোচবিহার ট্রফিতে বড় ইনিংস খেলে আলোচনায় এসেছিলেন আর্যবীর। মেঘালয়ের বিপক্ষে এক ম্যাচে তিনি করেন ২৯৭ রান। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে এমন বড় ইনিংস তাঁর ব্যাটিং সামর্থ্যের প্রতি নির্বাচকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে রাহুল দ্রাবিড়ের ছেলে অন্বয় দ্রাবিড় ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দলে আগে থেকেই পরিচিত মুখ। গত জুলাইয়ে শ্রীলঙ্কা সফরেও ভারতের যুব দলের সঙ্গে ছিলেন তিনি। সেই সফরের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে অন্বয় ব্যাট হাতে ৮৭ রান করেন। অস্ট্রেলিয়া সিরিজে তাঁকে দলে রাখা হয়েছে মূলত আগের পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতায়।
দুই ক্রিকেটারের একই সময়ে ভারতের যুব দলে জায়গা পাওয়ার বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি আগ্রহ তৈরি করেছে। কারণ, তাঁদের বাবারা ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম সফল দুই ব্যাটার। দ্রাবিড় দীর্ঘ সময় ভারতের টেস্ট ও ওয়ানডে দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন এবং পরে জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। শেবাগও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন। তবে সন্তানদের ক্ষেত্রে প্রত্যাশার চাপের পাশাপাশি নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের চ্যালেঞ্জও থাকবে।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ
ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার অনূর্ধ্ব-১৯ দলের মধ্যে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শুরু হবে ১৮ সেপ্টেম্বর। পরের দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ২১ ও ২৩ সেপ্টেম্বর। অর্থাৎ, মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে তিনটি ওয়ানডেতে নিজেদের সামর্থ্য দেখানোর সুযোগ পাবেন তরুণ ক্রিকেটাররা।
ওয়ানডে সিরিজের পর দুই দলের মধ্যে হবে দুটি চার দিনের ম্যাচ। প্রথম ম্যাচটি ২৭ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর এবং দ্বিতীয়টি ৫ থেকে ৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
তবে চার দিনের ম্যাচের জন্য ঘোষিত দলে আর্যবীর ও অন্বয়—কেউই জায়গা পাননি। ফলে আপাতত তাঁদের মনোযোগ থাকবে ওয়ানডে সিরিজেই।
আর্যবীরের সামনে এটি বড় সুযোগ। প্রথমবার ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের জার্সি গায়ে মাঠে নামার সম্ভাবনা তাঁর ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। অন্যদিকে অন্বয়ের জন্য লক্ষ্য হবে শ্রীলঙ্কা সফরের পারফরম্যান্সকে আরও এগিয়ে নেওয়া।
বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে ভালো করার পর পরবর্তী ধাপে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করাই এখন দুজনের প্রধান চ্যালেঞ্জ। বাবাদের পরিচিতি তাঁদের ওপর বাড়তি আলো ফেললেও মাঠের পারফরম্যান্সই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে ভারতের ক্রিকেটে তাঁরা কতটা দূর যেতে পারবেন।