প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজশাহী সফরকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘স্নাইপার’ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করার অভিযোগে আবু বকর সিদ্দিক নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। প্রধানমন্ত্রীর সফরে ব্যবহৃত একটি বাসের ছবি সংবলিত ফেসবুক পোস্টের মন্তব্যের ঘরে তাঁর লেখা একটি বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ ও আলোচনা তৈরি হয়।
এসআরবি-৫-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফয়সাল ইশতিয়াক গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আবু বকরকে আটকের পর পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে কী অভিযোগে মামলা হয়েছে, গ্রেপ্তারের পর তাঁর কাছ থেকে কী তথ্য পাওয়া গেছে কিংবা পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ কী—এসব বিষয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানায়নি।
ঘটনার সূত্রপাত ফেসবুকের ‘দ্য বিউটি অব রাজশাহী’ নামের একটি পেজে প্রকাশিত পোস্টকে কেন্দ্র করে। প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহী সফরের সময় ব্যবহৃত বাস নিয়ে দেওয়া ওই পোস্টের সঙ্গে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) একটি বাসের ছবি যুক্ত করা হয়। পোস্টটির মন্তব্যের ঘরে ‘আবু বকর সিদ্দিক’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লেখা হয়, ‘ইস! একটা বড় সুযোগ, শুধু একটা স্নাইপারের অভাব ছিল’।
মন্তব্যটির ভাষা ও প্রেক্ষাপট নিয়ে আপত্তি ওঠে। বিশেষ করে, প্রধানমন্ত্রীর সফরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি পোস্টে এ ধরনের বক্তব্যকে সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকির ইঙ্গিত হিসেবে দেখেন অনেকে। তবে মন্তব্যটি দিয়ে সরাসরি কোনো হামলার পরিকল্পনা বোঝানো হয়েছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
মন্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর হয়। সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের সূত্র ধরে আবু বকরকে শনাক্ত করা হয় বলে জানা গেছে। পরে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে অ্যাকাউন্টটি তাঁর নিজের কি না, মন্তব্যটি কোন পরিস্থিতিতে করা হয়েছিল এবং এর পেছনে কোনো সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য ছিল কি না—এসব বিষয়ে তদন্তের বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
এ বিষয়ে রাজশাহী মহানগর বিএনপির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট আলী আশরাফ মাসুম বলেন, ফেসবুকে এ ধরনের মন্তব্য দেখে তাঁরাও উদ্বিগ্ন হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, মন্তব্যটি তাঁর প্রতি হুমকির ইঙ্গিত বহন করে কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র উপপুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমানও বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখার কথা জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহী সফরকে কেন্দ্র করে ফেসবুক পেজে একজনের করা মন্তব্যটি উদ্বেগজনক, অপরাধমূলক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বহনকারী একটি বিশেষ বিমান রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দর থেকে তিনি রুয়েটের একটি বাসে করে রাজশাহী নগরীতে প্রবেশ করেন। এ সময় সড়কের দুই পাশে অসংখ্য মানুষ তাঁকে শুভেচ্ছা জানান। চলন্ত বাস থেকে প্রধানমন্ত্রীও হাত নেড়ে তাঁদের অভিবাদনের জবাব দেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে নগরীতে জনসমাগম ও উৎসাহের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা মন্তব্যটি নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয়। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নিরাপত্তা নিয়ে এ ধরনের বক্তব্যের ক্ষেত্রে এর প্রকৃত উদ্দেশ্য, বক্তব্যের প্রেক্ষাপট এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভূমিকা যাচাই করা জরুরি।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা কোনো মন্তব্যের ভিত্তিতে কাউকে অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করা যায় না। অভিযোগের সত্যতা, বক্তব্যের উদ্দেশ্য এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকি নির্ধারণে তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার ফল গুরুত্বপূর্ণ। এ ঘটনায় পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ও তদন্তের অগ্রগতির দিকেই এখন নজর রয়েছে।