• মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫৭ অপরাহ্ন

মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েন, প্রথমবার স্বীকার যুক্তরাষ্ট্রের

newsline24 / ৯ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েন, প্রথমবার স্বীকার যুক্তরাষ্ট্রের
মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েন, প্রথমবার স্বীকার যুক্তরাষ্ট্রের

পৃথিবীর কক্ষপথে অস্ত্র মোতায়েনের কথা প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির বিমানবাহিনীর সচিব ট্রয় মেঙ্ক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সোমবার বিমান, মহাকাশ ও সাইবার সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যের বরাতে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে।

ট্রয় মেঙ্ক বলেন, সম্ভাব্য শত্রুপক্ষের হামলা থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে সুরক্ষা দিতে কক্ষপথে এ ধরনের সক্ষমতা মোতায়েন করা প্রয়োজন ছিল। তবে ঠিক কী ধরনের অস্ত্র মহাকাশে স্থাপন করা হয়েছে, কতগুলো ব্যবস্থা রয়েছে কিংবা কখন সেগুলো মোতায়েন করা হয়েছে—এসব বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি।

মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, মহাকাশকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশল এখন শুধু স্যাটেলাইট ও যোগাযোগব্যবস্থা সুরক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। প্রয়োজন হলে প্রতিপক্ষের মহাকাশভিত্তিক সামরিক সক্ষমতাকে বাধাগ্রস্ত করার ব্যবস্থাও এর অংশ হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ‘গোল্ডেন ডোম’ প্রতিরক্ষা কর্মসূচির ক্ষেত্রেও মহাকাশভিত্তিক প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশপথের বিভিন্ন হুমকি মোকাবিলায় মহাকাশভিত্তিক প্রযুক্তি এবং ইন্টারসেপ্টর ব্যবহারের বিষয়টি রয়েছে।

মহাকাশে অস্ত্র ব্যবহারের প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক আইনও গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৬৭ সালের আউটার স্পেস ট্রিটি বা মহাকাশ চুক্তি মহাকাশে পারমাণবিক অস্ত্রসহ গণবিধ্বংসী অস্ত্র স্থাপন নিষিদ্ধ করেছে। তবে প্রচলিত অস্ত্র, স্যাটেলাইট অকার্যকর করার প্রযুক্তি বা অন্যান্য সামরিক সক্ষমতার বিষয়ে চুক্তিটিতে একই ধরনের সর্বাত্মক নিষেধাজ্ঞা নেই। ফলে মহাকাশে সামরিক প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রটি ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে।

মার্কিন স্পেস ফোর্সের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে প্রতিপক্ষের সামরিক সক্ষমতা ব্যাহত, অকার্যকর কিংবা ধ্বংস করতে কাইনেটিক ও নন-কাইনেটিক—দুই ধরনের পদ্ধতি ব্যবহারের সক্ষমতা তাদের রয়েছে। কমান্ডারের নির্দেশ অনুযায়ী এসব ব্যবস্থা আত্মরক্ষামূলক এবং আক্রমণাত্মক—উভয় ধরনের অভিযানে কাজে লাগানো যেতে পারে।

২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত মার্কিন স্পেস ফোর্সের প্রধান দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্যাটেলাইট ও অন্যান্য মহাকাশসম্পদ সুরক্ষা করা। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাহিনীটির ভূমিকা আরও বিস্তৃত হয়েছে। গত বছর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি নির্বাহী আদেশে স্পেস ফোর্সকে আত্মরক্ষার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী আক্রমণাত্মক সক্ষমতা ব্যবহারের ক্ষেত্রেও প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে, রাশিয়া ও চীন সামরিক আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে মহাকাশকে সম্ভাব্য যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করছে। তাদের আশঙ্কা, ভবিষ্যতের সংঘাতে স্যাটেলাইট ও মহাকাশভিত্তিক যোগাযোগব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে।

২০২৪ সালে রাশিয়া অন্য স্যাটেলাইটে হামলা চালাতে সক্ষম এমন একটি কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশে পাঠিয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ করে। এ ছাড়া ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইউরোপের প্রায় এক ডজন স্যাটেলাইটের ওপর রুশ উপগ্রহ নজরদারি বা আড়ি পাতার চেষ্টা করেছে বলেও মার্কিন তথ্যে দাবি করা হয়েছে।

মহাকাশে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর এই প্রতিযোগিতা ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে। বিশেষ করে যোগাযোগ, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নেভিগেশন ও ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কীকরণে ব্যবহৃত স্যাটেলাইটগুলো কোনো সংঘাতের সময় অকার্যকর হয়ে গেলে সামরিক ও বেসামরিক উভয় ক্ষেত্রেই বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কক্ষপথে অস্ত্র মোতায়েনের বিষয়টি প্রকাশ্যে স্বীকার করার ফলে মহাকাশের সামরিকীকরণ নিয়ে আন্তর্জাতিক আলোচনা আরও জোরালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category