চট্টগ্রামে এক ব্যবসায়ী ও তাঁর বন্ধুকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে জুয়া মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অর্থ ও ক্রিপ্টোকারেন্সি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) দুই সহকারী উপপরিদর্শককে (এএসআই) ক্লোজ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক সহকারী কমিশনারকে (এসি) প্রত্যাহার করে দামপাড়া পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।
ক্লোজ হওয়া দুই এএসআই হলেন সিএমপির ল’ফুল ইন্টারসেপ্টেড সেল (এলআইসি) বাছির উদ্দিন এবং রেশন স্টোরের সুফিয়ান। আর প্রত্যাহার হওয়া কর্মকর্তা হলেন এলআইসির এসি শরিফুল আলম সুজন।
সোমবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী। তিনি জানান, এক যুবকের কাছ থেকে টাকা ও ক্রিপ্টোকারেন্সি আদায়ের অভিযোগ পাওয়ার পর দুই এএসআইকে দামপাড়া পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। একই ঘটনায় এসিকেও পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।
সিএমপি কমিশনার বলেন, অভিযোগটির তদন্ত করছেন উপকমিশনার (ডিসি) মো. বদিউজ্জামান। দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন দিতে তাঁকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের সঙ্গে যে-ই জড়িত থাকুক না কেন, তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগের বিবরণ অনুযায়ী, গত ৪ সেপ্টেম্বর সকালে এসি শরিফুল আলমের নেতৃত্বে সাদা পোশাকের একদল পুলিশ চট্টগ্রামের হালিশহরের কে ব্লকের একটি বাসায় অভিযান চালায়। সেখান থেকে ব্যবসায়ী আখতারুজ্জামান শাকিল (২৭) ও তাঁর বন্ধু মনসুর আলীকে তুলে নিয়ে এলআইসি কার্যালয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
ভুক্তভোগীদের দাবি, এলআইসি কার্যালয়ে নেওয়ার পর তাঁদের মোবাইল ফোন তল্লাশি করা হয়। ফোন থেকে ব্যক্তিগত তথ্য ও ছবি সংগ্রহ করা হয়। পরে এসব ছবি ফাঁস করে দেওয়ার এবং তাঁদের জুয়া মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়।
একপর্যায়ে শাকিলের কাছ থেকে তিন দফায় প্রায় ১০ হাজার ৮৬৪ মার্কিন ডলার সমমূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সি স্থানান্তর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। স্থানীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এর বাইরে ব্যাংকের বুথ থেকে পাঁচ দফায় চার লাখ টাকা এবং মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে আরও ৮০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ করেছেন তাঁরা।
অভিযোগের হিসাবে, ক্রিপ্টোকারেন্সি ও নগদ অর্থ মিলিয়ে আদায়ের পরিমাণ প্রায় ১৮ লাখ ৫ হাজার টাকা। তবে এসব অভিযোগ তদন্তাধীন এবং এখনো কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চূড়ান্তভাবে দায় প্রমাণিত হয়নি।
ঘটনাটি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর সিএমপি কমিশনার তদন্ত কমিটি গঠন করেন। বর্তমানে সেই তদন্তের ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তদন্ত শেষ হওয়ার পর অভিযোগের সত্যতা ও ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত ছিলেন, সে বিষয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এদিকে বাংলাদেশে ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেনের বৈধতা নিয়েও রয়েছে স্পষ্ট বিধিনিষেধ। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ক্রিপ্টোকারেন্সির লেনদেন অনুমোদিত নয়। ফলে অভিযোগে ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহারের বিষয়টিও তদন্তে আলাদাভাবে গুরুত্ব পেতে পারে।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তদন্তে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফলে এখন তদন্ত প্রতিবেদনের দিকেই নজর রয়েছে।