হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় একজন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন। রোববার ভোরে ইরানের কেশম দ্বীপের কাছে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে কেশম শহরের গভর্নর আমির তেইমৌরি জানান, স্থানীয় সময় রোববার ভোর ৫টার দিকে হেঙ্গাম ও কেশম দ্বীপের উপকূলবর্তী এলাকায় একটি বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এতে একজনের মৃত্যু হয়। আহত হন আরও তিনজন।
তবে জাহাজটিতে ঠিক কী ধরনের হামলা চালানো হয়েছে, হামলার পেছনে কারা ছিল কিংবা কী কারণে জাহাজটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে—এসব বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি ইরানি কর্মকর্তা। হামলার পর জাহাজটির বর্তমান অবস্থা এবং সেটিতে থাকা অন্যদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যও প্রকাশ করা হয়নি।
এর আগে কেশম দ্বীপের আশপাশে রাতের বেলায় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাওয়ার খবর পাওয়া যায়। হরমুজ প্রণালির সবচেয়ে বড় দ্বীপ কেশম। কৌশলগত অবস্থানের কারণে এই দ্বীপ ও এর আশপাশের জলসীমা আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
হরমুজ প্রণালি পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় এই জলপথের গুরুত্ব অনেক। বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল, পরিশোধিত জ্বালানি ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসসহ বিভিন্ন পণ্যবাহী জাহাজ নিয়মিত এই পথ ব্যবহার করে। ফলে এখানে কোনো ধরনের নিরাপত্তা সংকট তৈরি হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও নৌপরিবহনে তার প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে।
বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন হরমুজ প্রণালি নিয়ে আঞ্চলিক উদ্বেগ আগে থেকেই রয়েছে। হামলার মাত্র এক দিন পর ওমানে ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে একটি নির্ধারিত বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
তবে হামলার সঙ্গে ওই বৈঠকের কোনো সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে ইরানি কর্তৃপক্ষ কোনো বক্তব্য দেয়নি। একইভাবে হামলার জন্য কোনো পক্ষকেও দায়ী করা হয়নি।
ঘটনার পর হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। আন্তর্জাতিক নৌপথ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি কীভাবে পরিবর্তিত হয়, এখন সেটিই নজরে রাখছেন সংশ্লিষ্টরা।