• রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:২৩ অপরাহ্ন

কারাগারে সাবেক এমপির ফোন, মিলল পর্নো ভিডিও

newsline24 / ২৪ Time View
Update : শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
কারাগারে সাবেক এমপির ফোন, মিলল পর্নো ভিডিও
কারাগারে সাবেক এমপির ফোন, মিলল পর্নো ভিডিও

ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ভারতের সাবেক সংসদ সদস্য প্রজ্বল রেভান্নার কারাকক্ষে মোবাইল ফোন ব্যবহারের ঘটনা সামনে এসেছে। শুধু ফোন ব্যবহারই নয়, তার কাছ থেকে জব্দ করা মোবাইল ফোন ও পেনড্রাইভের ফরেনসিক পরীক্ষায় বেশ কয়েকটি পর্নোগ্রাফিক ভিডিও ও ওয়েব সিরিজের সন্ধান মিলেছে।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১১ আগস্ট বেঙ্গালুরুর পারাপ্পানা অগ্রহারা কেন্দ্রীয় কারাগারে আকস্মিক অভিযান চালায় ক্রাইম ব্রাঞ্চের একটি বিশেষ দল। কারাগারের উচ্চনিরাপত্তা ব্যারাকে থাকা প্রজ্বল রেভান্নার সেলে তল্লাশি চালানোর সময় কর্মকর্তারা তাকে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে দেখেন। পরে তার কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন, একটি চার্জার, একটি পেনড্রাইভ ও একটি নোটবুক জব্দ করা হয়।

কারাগার থেকে জব্দ করা মোবাইল ফোন ও পেনড্রাইভ পরবর্তী সময়ে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। সেই পরীক্ষার প্রতিবেদনে মোবাইল ফোনে ডজনখানেক পর্নোগ্রাফিক ভিডিও থাকার তথ্য পাওয়া যায়। একই সঙ্গে পেনড্রাইভে একাধিক ওয়েব সিরিজও সংরক্ষিত ছিল বলে ফরেনসিক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

ভারতের কারাগার ব্যবস্থায় বন্দীদের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন, সিম কার্ড কিংবা অন্যান্য ইলেকট্রনিক যোগাযোগের ডিভাইস ব্যবহারের অনুমতি নেই। বন্দীদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য নির্ধারিত ও নজরদারির আওতাধীন ল্যান্ডলাইন, পাবলিক কল অফিস (পিসিও) কিংবা অনুমোদিত ভিডিও কলের ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে একজন উচ্চনিরাপত্তার বন্দীর সেল থেকে ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন উদ্ধারের ঘটনায় কারা ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

বিশেষ করে প্রজ্বল রেভান্নার মতো আলোচিত ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী একজন বন্দী কীভাবে কারাগারের ভেতরে মোবাইল ফোন পেলেন, সেটিই এখন তদন্তের অন্যতম বিষয়। ফোনটি কারাগারের ভেতরে কীভাবে প্রবেশ করল এবং কতদিন ধরে তিনি এটি ব্যবহার করছিলেন, তা নিয়েও তদন্ত চলছে।

ঘটনার পর দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে একজন কারা কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কারাগারের মতো কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত স্থানে একটি ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন পৌঁছে যাওয়া এবং তা ব্যবহার করা সম্ভব হওয়ায় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

প্রজ্বল রেভান্না ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবেগৌড়ার নাতি এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এইচ ডি কুমারস্বামীর ভাতিজা। তিনি জনতা দল (সেক্যুলার)-এর সাবেক সংসদ সদস্য। যৌন নির্যাতনের অভিযোগ সামনে আসার পর তিনি ভারতের রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনায় আসেন।

একটি ধর্ষণ মামলায় ৪৮ বছর বয়সী এক নারীকে ধর্ষণ এবং সেই ঘটনার ভিডিও ধারণ ও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে প্রজ্বল রেভান্নাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। ওই নারী হাসান জেলার হোলেনারাসিপুরায় রেভান্না পরিবারের একটি ফার্মহাউসে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতেন।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ ছিল, ২০২১ সাল থেকে প্রজ্বল রেভান্না তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। এসব ঘটনার ভিডিও ধারণ করে রাখা হতো এবং বিষয়টি কাউকে জানালে সেই ভিডিও প্রকাশ করে দেওয়ার ভয় দেখানো হতো।

মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। বর্তমানে তিনি সেই সাজা ভোগ করছেন। এর মধ্যেই কারাগারের ভেতরে তার কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধারের ঘটনা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ফরেনসিক প্রতিবেদনে পর্নোগ্রাফিক ভিডিও ও ওয়েব সিরিজ থাকার তথ্য সামনে আসায় তদন্তকারীরা এখন জব্দ করা ডিভাইসগুলোর ব্যবহার, সেগুলো কারাগারে কীভাবে প্রবেশ করল এবং বন্দী অবস্থায় এগুলো দিয়ে আর কোনো যোগাযোগ বা কার্যক্রম চালানো হয়েছিল কি না—এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category