ফিলিস্তিনের সরকারি বার্তা সংস্থা ওয়াফা নিউজ এজেন্সি জেরুজালেম গভর্নরেটের গণমাধ্যম শাখার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুমার নামাজ শেষ হওয়ার পরপরই ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা শেখ খালেদ আবু জুমআকে ঘিরে ফেলেন। পরে তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়া হয়। মুসল্লিদের উপস্থিতিতে সংঘটিত এ আটকের ঘটনা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তাঁকে কোথায় নেওয়া হয়েছে, কতক্ষণ আটক রাখা হবে কিংবা তাঁর বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়েছে কি না, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে স্পষ্ট তথ্য জানানো হয়নি।
আল-আকসা মসজিদ মুসলমানদের অন্যতম পবিত্র ধর্মীয় স্থাপনা। অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের পুরোনো শহরে অবস্থিত এই মসজিদ ফিলিস্তিনিদের ধর্মীয় অনুভূতি, জাতীয় পরিচয় ও ঐতিহাসিক অধিকারের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। ফলে মসজিদটির খতিব বা অন্য কোনো ধর্মীয় ব্যক্তিত্বকে ঘিরে নিরাপত্তা বাহিনীর পদক্ষেপ ফিলিস্তিনিদের মধ্যে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
আল-আকসায় বিধিনিষেধ নিয়ে উদ্বেগ
দীর্ঘদিন ধরে আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ফিলিস্তিনি মুসল্লিদের প্রবেশ, ধর্মীয় কার্যক্রম এবং ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতা নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিভিন্ন সময়ে মসজিদ এলাকায় প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপ, মুসল্লিদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষ এবং ফিলিস্তিনি ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের আটক করার ঘটনাও সামনে এসেছে। এসব পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
আল-আকসা মসজিদকে ঘিরে যেকোনো নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাতের বৃহত্তর প্রেক্ষাপটেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। জেরুজালেমের পবিত্র স্থানগুলোর নিয়ন্ত্রণ, সেখানে মুসল্লিদের প্রবেশাধিকার এবং ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনার স্বাধীনতা দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধের অন্যতম বিষয়।
শেখ খালেদ আবু জুমআকে আটকের ঘটনায় ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশের তথ্য পাওয়া যায়নি। তাঁর আটকের সুনির্দিষ্ট কারণও এখনো স্পষ্ট নয়। ফলে ঘটনাটির পরবর্তী পরিস্থিতি এবং তাঁর বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয় কি না, তা জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: ওয়াফা নিউজ এজেন্সি, জেরুজালেম গভর্নরেটের গণমাধ্যম শাখা