চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। নিয়োগের ২১ দিন পর সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে তালা ভেঙে কার্যালয়ে প্রবেশ করেন তিনি। পরে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের ফটকে ফের তালা দেন। একই সঙ্গে ভবনটির বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়।
সোমবার সকালে উপাচার্য তালা ভেঙে কার্যালয়ে প্রবেশ করেছেন—এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর প্রশাসনিক ভবনের সামনে জড়ো হন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে তাঁরা ভবনের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে অবস্থান নেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের ‘তালা তালা হবে, ভিসি ভবন তাল হবে’ স্লোগান দিতে শোনা যায়। তাঁদের এই কর্মসূচির কারণে উপাচার্যের স্বাভাবিক দাপ্তরিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়।
উপাচার্যের নিয়োগকে কেন্দ্র করে চুয়েটে গত তিন সপ্তাহ ধরে অচলাবস্থা চলছে। গত ২১ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয় সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অপসারণ করে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয়। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে নতুন উপাচার্যের নিয়োগ বাতিল এবং সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।
দাবি আদায়ে শিক্ষার্থীরা টানা ২১ দিন ধরে আন্দোলন ও ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করছেন। তাঁদের কর্মসূচির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। শুরুতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চললেও পরে এর সঙ্গে যুক্ত হন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও। তাঁরাও পূর্ণাঙ্গ কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, প্রশাসনিক ভবনে তালা এবং শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মবিরতির ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ সময় শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকলে সেশনজট বাড়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে বিরোধের জেরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। একদিকে নতুন উপাচার্যের দায়িত্ব পালন, অন্যদিকে সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের অনড় অবস্থান—দুইয়ের মধ্যে অচলাবস্থা কাটার কোনো ইঙ্গিত এখনো পাওয়া যায়নি। তবে সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমঝোতা না হলে শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগতে পারে।