সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে প্রখ্যাত সাংবাদিক, ভয়েস অব আমেরিকার সাবেক সংবাদ পাঠক ও একুশে পদকপ্রাপ্ত গিয়াস কামাল চৌধুরীর স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ জাতীয় সাংবাদিক সমিতি এ স্মরণসভার আয়োজন করে।
বক্তব্যে রিজভী গিয়াস কামাল চৌধুরীর সততা, সাহস ও দেশপ্রেমের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, গিয়াস কামাল ছিলেন দেবতুল্য মানুষ। তাঁর মতো মানুষের অদম্য সাহস ও সততার কারণেই ফ্যাসিস্টরা এ দেশে চিরস্থায়ী হতে পারেনি। এ সময় বিদেশে বাংলাদেশি শ্রমিকদের সুনামের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
স্মরণসভায় বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) চেয়ারম্যান ও দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার বলেন, গিয়াস কামাল চৌধুরীর মতো গুণী মানুষকে স্মরণ করা মানে ভালো কাজের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করা। অথচ সমাজে প্রকৃত গুণীজনদের স্মরণ করার প্রবণতা কমে যাচ্ছে। বরং অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত ভিলেনদের নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা দেখা যায়।
গিয়াস কামালের মানবিকতার নানা ঘটনা তুলে ধরে আবদুল হাই শিকদার বলেন, প্রেস ক্লাবের ইফতার মাহফিল শেষে বেঁচে যাওয়া ফলমূল তিনি ঝোলায় করে নিয়ে যেতেন। পরে সেগুলো পল্টন এলাকার ফুটপাতের হকার ও ভিক্ষুকদের মধ্যে বিলিয়ে দিতেন। অসহায় মানুষের প্রয়োজনে নিজের পকেটের টাকা থেকে রিকশাভাড়া ও খাবারের খরচও দিতেন তিনি।
দেশের প্রতি তাঁর দায়িত্ববোধের উদাহরণ দিতে গিয়ে শিকদার বলেন, যমুনা সেতু চালুর ১৫ দিন পর রাজশাহীতে যাওয়ার পথে এক ব্যক্তিকে হাতুড়ি দিয়ে সেতুতে আঘাত করতে দেখে গাড়ি থামিয়ে প্রতিবাদ করেছিলেন গিয়াস কামাল। দেশের সামান্য ক্ষতিও তাঁর নজর এড়াত না।
আবদুল হাই শিকদার আরও বলেন, ১৯৯১ সালের নির্বাচনে ফেনীতে খালেদা জিয়ার পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার দায়িত্ব পালন করায় গিয়াস কামালকে ভয়েস অব আমেরিকা থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। চাকরি ছাড়লেও নিজের বিশ্বাস থেকে সরে দাঁড়াননি তিনি।
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল লতিফ মাসুমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরী এবং বাংলাদেশ জাতীয় সাংবাদিক সমিতির মহাসচিব মোহাঃ শেখ সাদীসহ অন্যরা।