নিহত পিয়ারা বেগমের (৬৩) বাড়ি জকিগঞ্জ পৌর এলাকার পঙ্গবট গ্রামে। তিনি মৃত ফয়জুল ইসলামের স্ত্রী। গত রোববার দিবাগত মধ্যরাতে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জায়গা-সম্পত্তি নিজের নামে লিখে দেওয়া এবং নগদ টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সুমন আহমদের বিরোধ চলছিল। গত শুক্রবার একই দাবিকে কেন্দ্র করে তিনি তাঁর সৎমা কুটিনা বেগমকে (৪৫) মারধর করেন। এর পরদিন শনিবার রাত ১১টার দিকে আবারও একই বিষয় নিয়ে পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালান তিনি।
এ সময় সুমনের মা পিয়ারা বেগম, সৎমা কুটিনা বেগম, ভাই শাহীন আহমদ (৩৮), ভাইয়ের স্ত্রী শাহানা বেগম (৩২) এবং আড়াই বছরের ভাতিজি ইসরাত জাহান গুরুতর আহত হয়। একই পরিবারের পাঁচ সদস্য আহত হওয়ার ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ দেখা দেয়।
পরে স্থানীয় লোকজন আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার দিবাগত মধ্যরাতে পিয়ারা বেগম মারা যান। পরিবারের অন্য আহত সদস্যদের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় নিহত পিয়ারা বেগমের ছেলে ও সুমনের বড় ভাই শাহীন আহমদ বাদী হয়ে জকিগঞ্জ থানায় মামলা করেছেন। মামলায় সুমন আহমদ ও অপর ভাই শামীম আহমদকে আসামি করা হয়েছে।
জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক জানান, ছেলের হামলায় আহত পিয়ারা বেগম চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত সুমন আহমদকে তাঁর বসতঘর থেকে গ্রেফতার করে।
সম্পত্তি ও অর্থ নিয়ে পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘটিত এই ঘটনায় একজনের মৃত্যু এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের আহত হওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে হামলার পেছনে বিরোধের বিস্তারিত কারণ, মামলার অন্য আসামির অবস্থান এবং ঘটনার পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়নি।