সোমবার প্রখ্যাত ক্রীড়া সাংবাদিক ফ্যাব্রিজিও রোমানো তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ তথ্য জানান। তাঁর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ভোটের হিসাবে রোনালদো এগিয়ে রয়েছেন। তবে দুই তারকার মধ্যে ভোটের ব্যবধান কত, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো পরিসংখ্যান উল্লেখ করা হয়নি।
রোমানো জানান, এই ভোটে অংশ নিতে একজন ভোটারকে এক ইউরো খরচ করতে হবে। ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠান শুরুর আগের সন্ধ্যা পর্যন্ত ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকবে। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর আগামী ২৮ অক্টোবর আনুষ্ঠানিক ওয়েবসাইটে ফলাফল প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
ফুটবল বিশ্বে মেসি ও রোনালদোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা দীর্ঘদিনের। প্রায় দুই দশক ধরে ব্যক্তিগত অর্জন, গোলসংখ্যা, দলীয় সাফল্য ও মাঠের পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তাঁরা নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিয়েছেন। দুই তারকার সমর্থকদের মধ্যে কে সর্বকালের সেরা, তা নিয়ে বিতর্কও নিয়মিত দেখা যায়। ফলে তাঁদের নিয়ে যেকোনো জনমত জরিপ ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহের কেন্দ্রে থাকে।
মেসি ও রোনালদো দুজনই ব্যালন ডি’অর জয়ের মাধ্যমে ফুটবল ইতিহাসে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করেছেন। মেসি রেকর্ড আটবার এই পুরস্কার জিতেছেন। অন্যদিকে রোনালদোর ঝুলিতে রয়েছে পাঁচটি ব্যালন ডি’অর। ব্যক্তিগত এই অর্জনের পাশাপাশি বিশ্বকাপ, মহাদেশীয় প্রতিযোগিতা, ক্লাব ফুটবলে সাফল্য এবং দীর্ঘ সময় ধরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পারফর্ম করার বিষয়গুলোও তাঁদের শ্রেষ্ঠত্বের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তবে ব্যালন ডি’অর জয়ের সংখ্যা দিয়ে দুই খেলোয়াড়ের সামগ্রিক অবদান পুরোপুরি মূল্যায়ন করা যায় না। মেসির খেলার ধরন, দৃষ্টিনন্দন ড্রিবলিং, নিখুঁত পাস ও গোল করার দক্ষতা যেমন তাঁকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে, তেমনি রোনালদোর শারীরিক সক্ষমতা, গোল করার ধারাবাহিকতা, আকাশে লাফিয়ে হেড করার দক্ষতা এবং বিভিন্ন লিগে সাফল্য তাঁকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। সমর্থকদের কাছে কে এগিয়ে থাকবেন, তা অনেকটাই নির্ভর করে ব্যক্তিগত পছন্দ ও ফুটবল মূল্যায়নের মানদণ্ডের ওপর।
এদিকে ফ্রান্স ফুটবল জানিয়েছে, ‘অল-টাইম ব্যালন ডি’অর’ কোনো আনুষ্ঠানিক পুরস্কার নয়। ফুটবলপ্রেমীদের নিজেদের পছন্দ প্রকাশের সুযোগ দিতে এই জনভোটের আয়োজন করা হয়েছে। নতুন কোনো ট্রফি প্রবর্তন করা এর উদ্দেশ্য নয়; বরং ফুটবল ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়দের নিয়ে ভক্তদের মতামত তুলে ধরাই এর মূল লক্ষ্য।
এ কারণে চলমান ভোটে রোনালদো এগিয়ে থাকলেও এটিকে মেসির তুলনায় তাঁর সামগ্রিক শ্রেষ্ঠত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং এই ফলাফল ভোটে অংশ নেওয়া সমর্থকদের পছন্দের প্রতিফলন। চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর জানা যাবে, সর্বকালের সেরা ব্যালন ডি’অর নিয়ে আয়োজিত এই জনমত জরিপে শেষ পর্যন্ত কোন তারকা এগিয়ে থাকেন।