প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। তাঁর মতে, এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন খাতে জাপানি বিনিয়োগ বাড়লে নতুন কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।
রোববার রাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বিদায় জানাতে বিমানবন্দরে উপস্থিত হয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন রুহুল কবির রিজভী।
রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে বিনিয়োগের নতুন নতুন ক্ষেত্র উন্মোচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উন্নয়ন খাতে জাপানের বিনিয়োগ বাড়তে পারে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, এ ধরনের বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারিত হতে পারে।
জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগিতার সম্পর্কের কথা তুলে ধরে রিজভী বলেন, জাপান বিশ্বের অন্যতম উন্নত দেশ। দেশটি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়ন করে আসছে। বাংলাদেশের উন্নয়ন কার্যক্রমে জাপানের অংশীদারত্বের ইতিবাচক ঐতিহ্য রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের সহযোগিতার সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে তাঁর প্রত্যাশা।
বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়নের পাশাপাশি বাণিজ্য, শিল্পায়ন ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার মতো বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রধানমন্ত্রীর সফরে এসব ক্ষেত্রে কী ধরনের নতুন উদ্যোগ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া না গেলে সম্ভাব্য বিনিয়োগের পরিমাণ বা কর্মসংস্থানের সংখ্যা সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যায় না।
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন রিজভী। তিনি বলেন, আগে দেশে যে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, সেখান থেকে অর্থনীতিকে গুছিয়ে তোলার চেষ্টা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে চলছে। তাঁর দাবি, ইতোমধ্যে অর্থনীতিকে অনেকটাই গুছিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
তবে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের অগ্রগতি মূল্যায়নে মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ, রপ্তানি ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মতো সূচক বিবেচনা করা প্রয়োজন। এসব সূচকের হালনাগাদ তথ্য ছাড়া অর্থনীতির পরিস্থিতি কতটা উন্নত হয়েছে, তা স্বাধীনভাবে নিরূপণ করা কঠিন।
বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ, অবকাঠামোগত সুবিধা এবং নীতির ধারাবাহিকতা গুরুত্বপূর্ণ বলে সাধারণভাবে বিবেচিত হয়। জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতা বাড়লে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে সেই সম্ভাবনা বাস্তবায়িত হবে কি না, তা নির্ভর করবে দুই দেশের আলোচনার ফলাফল, বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্ত এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়নের ওপর।
রিজভীর বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর ঘিরে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান নিয়ে সরকারের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেছে। তবে সফরের ফলে কী পরিমাণ বিনিয়োগ আসবে, কোন কোন খাতে নতুন প্রকল্প নেওয়া হবে কিংবা কত মানুষের কর্মসংস্থান হবে—এসব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য ছাড়া আগাম সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।