• শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৪২ পূর্বাহ্ন

ইসলামী ব্যাংকের ৮১.৯২% শেয়ার ফ্রিজে হাইকোর্টের নির্দেশ

newsline24 / ৮ Time View
Update : শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ইসলামী ব্যাংকের ৮১.৯২% শেয়ার ফ্রিজে হাইকোর্টের নির্দেশ
ইসলামী ব্যাংকের ৮১.৯২% শেয়ার ফ্রিজে হাইকোর্টের নির্দেশ

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিতে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ২৪টি কোম্পানির নামে থাকা মোট ৮১ দশমিক ৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজ করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। ইসলামী ইকোনমিক রিসার্চ ব্যুরোর করা এক আবেদনের শুনানি শেষে আদালত এ আদেশ দেন।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ নির্দেশ দেন। এর আগে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) আদেশটির লিখিত অনুলিপি প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আবেদনকারীর আইনজীবী শিশির মনির।

আদালতে করা আবেদনে বলা হয়েছে, প্রচলিত আইন অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি, একই পরিবার বা একই গ্রুপের স্বার্থসংশ্লিষ্ট মালিকানার মাধ্যমে একটি ব্যাংকের মোট শেয়ারের ১০ শতাংশের বেশি নিয়ন্ত্রণে রাখার সুযোগ নেই। কিন্তু ইসলামী ব্যাংকের ক্ষেত্রে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ২৪টি প্রতিষ্ঠান প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ারহোল্ডার হিসেবে যুক্ত হয়ে ব্যাংকটির ৮১ দশমিক ৯২ শতাংশ শেয়ার ধারণ করছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আবেদনকারীদের বক্তব্য অনুযায়ী, এত বড় পরিমাণ শেয়ার একটি নির্দিষ্ট ব্যবসায়িক গোষ্ঠী ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের হাতে থাকা ব্যাংকের মালিকানা কাঠামো এবং নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। সেই প্রেক্ষাপটেই এসব শেয়ার ফ্রিজ করার জন্য আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়।

হাইকোর্টের সর্বশেষ নির্দেশের ফলে সংশ্লিষ্ট ২৪ কোম্পানির নামে থাকা শেয়ারগুলো নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে মালিকানা বা লেনদেনের ক্ষেত্রে আদালতের আদেশের প্রভাব পড়বে। তবে শেয়ার ফ্রিজ করার আদেশের পাশাপাশি মামলার পরবর্তী কার্যক্রম ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্যের ভিত্তিতে বিষয়টির আইনি নিষ্পত্তির পথ এগোবে।

ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট শেয়ারহোল্ডারদের বিষয়ে এর আগেও হাইকোর্টে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গত বছর আদালত ব্যাংকটির এস আলম-সংশ্লিষ্ট ২৪ প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ারহোল্ডার, পরিচালক এবং কয়েকজন ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। একই আদেশে সংশ্লিষ্ট শেয়ারহোল্ডার ও পরিচালকদের আদালতের অনুমতি ছাড়া দেশত্যাগের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।

নতুন আদেশটি মূলত ইসলামী ব্যাংকের বড় অংশের শেয়ার মালিকানা নিয়ে চলমান আইনি প্রক্রিয়ায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে এসেছে। একটি ব্যাংকের মালিকানা ও পরিচালনায় শেয়ারহোল্ডারদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এত বড় অংশের শেয়ার একটি নির্দিষ্ট সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানের হাতে থাকার বিষয়টি আদালতের নজরে এসেছে।

আবেদনে উত্থাপিত অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা বা সংশ্লিষ্ট শেয়ার মালিকানার আইনগত অবস্থান সম্পর্কে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। আদালতের পরবর্তী শুনানি ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনার মাধ্যমে বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ আইনি অবস্থান আরও স্পষ্ট হবে।

ইসলামী ব্যাংক দেশের অন্যতম বড় বেসরকারি ব্যাংক হওয়ায় এর মালিকানা কাঠামো, পরিচালনা এবং শেয়ারহোল্ডারদের ভূমিকা নিয়ে আদালতের যেকোনো সিদ্ধান্ত ব্যাংকটির ভবিষ্যৎ পরিচালনা ও করপোরেট কাঠামোর ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। সর্বশেষ নির্দেশের পর এখন সংশ্লিষ্ট শেয়ারগুলো নিয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের দিকেই নজর থাকবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category