• শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৪১ পূর্বাহ্ন

মাদ্রাসাছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষক আটক

newsline24 / ২১ Time View
Update : শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
মাদ্রাসাছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষক আটক
মাদ্রাসাছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষক আটক

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় এক অপ্রাপ্তবয়স্ক আবাসিক ছাত্রীকে যৌন হয়রানি ও শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগে আবুল কালাম আজাদ নামে এক মাদ্রাসাশিক্ষককে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার জামজামি ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ওই শিক্ষককে মারধর করেছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চরপাড়া জামিয়া ইসলামিয়া কওমি মহিলা মাদ্রাসায় পুরুষ ও মহিলা শাখার পাশাপাশি আবাসিক ও কিন্ডারগার্টেন শাখাও রয়েছে। মাদ্রাসাটির আবাসিক শাখায় শতাধিক ছাত্রী পড়াশোনা করে। আবুল কালাম আজাদ দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটির ‘বড় হুজুর’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তার স্ত্রীও মাদ্রাসার মহিলা শাখায় শিক্ষকতা করেন। স্বামী-স্ত্রী দুজনই মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে বসবাস করেন।

অভিযোগকারী ছাত্রীর বাবা সাহানুর রহমানের দাবি, তার মেয়েকে বিভিন্ন সময় আবুল কালাম আজাদ কুপ্রস্তাব দিতেন। বুধবার রাতে মাদ্রাসার আবাসিক শাখায় থাকা অবস্থায় ওই শিক্ষক তার মেয়েকে জোরপূর্বক শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পরে বিষয়টি পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজনের মধ্যে জানাজানি হলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার বিষয়ে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সদস্য হাফিজুর রহমানের কাছে জানতে চান স্থানীয়রা। অভিযোগের প্রমাণ নিয়ে কথা বলার সময় তাদের সঙ্গে তার তর্ক-বিতর্ক হয় বলে জানা গেছে। একপর্যায়ে খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ লোকজন মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে জড়ো হন। তারা অভিযুক্ত শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়।

তবে আবুল কালাম আজাদ তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, তাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সন্তানতুল্য মনে করে পড়াশোনা করিয়ে আসছেন। ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও সুধীজনের ভাষ্য, আবুল কালাম আজাদ এলাকায় ভালো ও বুদ্ধিমান ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তাদের কাছে বিশ্বাস করা কঠিন বলেও তারা মন্তব্য করেছেন। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি এর পেছনে কোনো ষড়যন্ত্র বা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনার কথা বলেছেন তারা।

আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরাইল জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাদ্রাসাশিক্ষককে উদ্ধার করে হেফাজতে নিয়েছে। অভিযোগটি বর্তমানে তদন্তাধীন। তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও পরিস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এরপর প্রাপ্ত তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীকে ঘিরে ওঠা এমন অভিযোগে স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা তৈরি হলেও তদন্ত শেষ হওয়ার আগে অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। পুলিশি তদন্ত ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category