রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন গণতান্ত্রিক অধিকার হলেও এর মাধ্যমে দেশজুড়ে অচলাবস্থা সৃষ্টি না করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। একই সঙ্গে চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট ও বাস্তবসম্মত প্রস্তাব দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার সকালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থার নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন রিজভী আহমেদ।
তিনি বলেন, বিরোধী দলের লংমার্চসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করার অধিকার রয়েছে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকারের সমালোচনা করা এবং রাজনৈতিক কর্মসূচি দেওয়া স্বাভাবিক বিষয়। তবে কর্মসূচির নামে পরিকল্পিতভাবে জনজীবনে ভোগান্তি তৈরি কিংবা দেশে অচলাবস্থা সৃষ্টি করা থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন।
বর্তমানে দেশে জ্বালানি খাতে যে সংকট চলছে, সেটির প্রসঙ্গও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। রিজভী আহমেদ বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাবে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে। তাঁর দাবি, এই পরিস্থিতির জন্য বর্তমান সরকারকে দায়ী করা ঠিক হবে না।
তবে সংকট নিয়ে কেবল রাজনৈতিক বক্তব্য বা রাজপথের কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সমাধানের পথ দেখানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। বিরোধী দলগুলোর কাছে তাঁর আহ্বান—গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় তাদের নিজস্ব কোনো পরিকল্পনা বা সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব থাকলে তা জনগণের সামনে তুলে ধরা উচিত।
রিজভী আহমেদ বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব শুধু সরকারের সমালোচনা করা নয়; জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে বিকল্প পরিকল্পনাও জনগণ ও সংসদের সামনে উপস্থাপন করা দরকার। বিশেষ করে জ্বালানি সংকটের মতো বিষয় সরাসরি মানুষের দৈনন্দিন জীবন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও উৎপাদন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় এ নিয়ে দায়িত্বশীল রাজনৈতিক ভূমিকা প্রয়োজন।
তিনি বিরোধী দলকে সংসদ কার্যকর করার ক্ষেত্রেও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, সরকারের যৌক্তিক সমালোচনার পাশাপাশি জাতীয় সংকট মোকাবিলায় কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে, সে বিষয়ে সংসদে বিস্তারিত প্রস্তাব তুলে ধরা উচিত।
রাজপথের কর্মসূচির পাশাপাশি নীতিগত আলোচনা ও বিকল্প পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন বিএনপির এই নেতা। তাঁর বক্তব্যে রাজনৈতিক বিরোধের পাশাপাশি জাতীয় সংকট মোকাবিলায় দলগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে অতীতের রাজনৈতিক বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি না করে বাস্তবসম্মত সমাধানের প্রস্তাব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি না করে সংকটের প্রকৃত পরিস্থিতি তুলে ধরা এবং সমাধানের পথ নিয়ে আলোচনা করাই রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব।