• মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৪ অপরাহ্ন

গাজায় যুদ্ধবিরতির মধ্যেও ইসরায়েলি হামলা, নিহত ৫

newsline24 / ১৪ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
গাজায় যুদ্ধবিরতির মধ্যেও ইসরায়েলি হামলা, নিহত ৫
গাজায় যুদ্ধবিরতির মধ্যেও ইসরায়েলি হামলা, নিহত ৫

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার মধ্যেও ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) গাজা সিটির দুটি এলাকায় পৃথক বিমান হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রথম হামলাটি চালানো হয় গাজা সিটির একটি পৌর পার্কের কাছে। সেখানে বাস্তুচ্যুত বেশ কয়েকটি পরিবার আশ্রয় নিয়েছিল। হামলার সময় ওই এলাকায় মানুষের জটলা ছিল। চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিমান হামলায় ঘটনাস্থলে দুজন নিহত হন। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন।

এর কিছুক্ষণ পর গাজা সিটির পশ্চিমাঞ্চলের তাল আল-হাওয়া এলাকায় একটি গাড়িকে লক্ষ্য করে আরেকটি বিমান হামলা চালানো হয়। এতে আরও তিনজন নিহত হন। দুই হামলায় মোট পাঁচজন প্রাণ হারান।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, হামলার লক্ষ্য ছিল হামাসের যোদ্ধারা। তবে তাদের এই দাবির সমর্থনে কোনো প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি। অন্যদিকে, হামলার শিকার এলাকাগুলোর মধ্যে বাস্তুচ্যুত মানুষ আশ্রয় নেওয়া স্থান থাকায় বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

নিহতদের মধ্যে দুজনের মরদেহ গাজার সবচেয়ে বড় চিকিৎসাকেন্দ্র আল-শিফা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে স্বজন ও বন্ধুরা তাঁদের শেষবারের মতো দেখেন। পরে মরদেহগুলো দাফনের জন্য কবরস্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।

যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও গাজায় সহিংসতার ঘটনা বন্ধ হয়নি। এর আগের দিন রোববার মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় তিন বছর বয়সী এক শিশুসহ দুজন নিহত হন। তার আগের দিনও বিভিন্ন হামলায় অন্তত চারজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় ১ হাজার ৩১৩ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরও অনেকে। পাশাপাশি ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো ৪ থেকে ৫ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি সেন্টার ফর মিসিং অ্যান্ড ফরসিবলি ডিসঅ্যাপিয়ার্ড পারসন্স।

২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে হতাহতের সংখ্যা আরও ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অভিযান শুরুর পর থেকে প্রায় ৭৩ হাজার ৫০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন প্রায় ১ লাখ ৭৪ হাজার ৫০০ জন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, নিহত ও আহতদের বড় একটি অংশ নারী ও শিশু। দীর্ঘ সংঘাতের কারণে গাজার বিভিন্ন এলাকায় বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং অনেক পরিবারকে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে বারবার স্থান পরিবর্তন করতে হয়েছে।

সাম্প্রতিক হামলাগুলো তাই যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে। যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও একের পর এক হামলায় প্রাণহানি ঘটায় গাজায় বসবাসরত মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ছে। বিশেষ করে যেখানে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো আশ্রয় নিয়েছে, সেসব এলাকায় হামলার খবর পরিস্থিতিকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলেছে।

সোমবারের দুই হামলায় নিহত পাঁচজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করা হয়নি। হামাসের যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে হামলা চালানোর যে দাবি ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী করেছে, তার বাইরে হামলার ধরন ও হতাহতদের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্যও সীমিত। ফলে বেসামরিক হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা এবং হামলার সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে আরও তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে।

গাজায় যুদ্ধবিরতির মধ্যেও নতুন করে প্রাণহানির ঘটনা চলতে থাকায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমার বদলে আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নিহতদের পরিবারগুলো স্বজন হারানোর শোকের মধ্যে রয়েছে, আর নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যরা এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা প্রিয়জনদের সন্ধানের অপেক্ষায়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category