ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের কাছে বুচা এলাকায় রাশিয়ার ড্রোন হামলায় অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চার শিশু রয়েছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) মধ্যরাতে চালানো এই হামলায় একটি বাণিজ্যিক গুদামে আগুন ধরে যায় এবং সেখানে একের পর এক বিস্ফোরণ ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং প্রাণহানি এড়াতে ওই এলাকার প্রায় ৪০০ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
আঞ্চলিক গভর্নর তিমুর তকাচেঙ্কোর বরাত দিয়ে জানা গেছে, হামলায় আরও ৪২ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে শিশুও রয়েছে। বিস্ফোরণ ও আগুনের কারণে গুদামটির ভেতরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উদ্ধারকাজের সময় ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকা পড়ে আছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হয়।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলার লক্ষ্য ছিল দূরপাল্লার ড্রোন তৈরির যন্ত্রাংশ ও গোলাবারুদ সংরক্ষণের একটি গোপন স্থাপনা। মস্কোর দাবি, ওই স্থাপনাকে লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হয়েছিল। তবে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের বসতির কাছাকাছি এমন সামরিক সরঞ্জাম ও গোলাবারুদ কীভাবে রাখা হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
ঘটনার পর ইউক্রেন সরকার বিষয়টি নিয়ে বিশেষ তদন্ত শুরু করেছে। বিশেষ করে বেসামরিক মানুষের বসতির এত কাছে বিপজ্জনক সামগ্রী মজুদের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অবহেলা বা নিরাপত্তাজনিত ব্যর্থতা ছিল কি না, সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
শুধু বুচা নয়, একই রাতে ইউক্রেনের আরও কয়েকটি এলাকায় রুশ বাহিনী ব্যাপক ড্রোন হামলা চালিয়েছে। কিয়েভের পাশাপাশি ওডেসা, সুমি ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকাও হামলার আওতায় ছিল। এসব হামলায় এক কিশোরসহ আরও কয়েকজন হতাহত হয়েছেন বলে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
ইউক্রেনের সেনাবাহিনী বলেছে, রাতভর চালানো আকাশ প্রতিরক্ষা অভিযানে তারা রাশিয়ার ২৩৩টি ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করেছে। এতে বোঝা যায়, হামলার পরিসর ছিল ব্যাপক এবং ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপরও বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছিল।
এদিকে রাশিয়ার হামলার পাল্টা জবাব দিতে ইউক্রেনও দেশটির ভূখণ্ডের ভেতরে সামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা বাড়িয়েছে। রাশিয়ার কয়েকটি অঞ্চলে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় দুজন নিহত এবং ২১ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
রাশিয়ার ভেতরে চালানো এসব হামলায় বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি দেশটির একটি বড় অনলাইন কেনাকাটার প্রতিষ্ঠানের গুদামও ড্রোনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব হামলার বিস্তারিত ক্ষয়ক্ষতি ও লক্ষ্যবস্তুর বিষয়ে পৃথকভাবে আরও তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা যুদ্ধের সাম্প্রতিক পর্যায়ে ড্রোন হামলা দুই পক্ষের সামরিক কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। সামরিক লক্ষ্যবস্তুর পাশাপাশি বিভিন্ন স্থাপনা ও অবকাঠামোও এসব হামলার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
বুচায় সর্বশেষ হামলায় প্রাণহানির ঘটনায় ইউক্রেনের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি নতুন করে সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়েছে। কিয়েভ বিশ্বনেতাদের কাছে আরও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ এবং রাশিয়ার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি জানিয়েছে।
হামলা ও পাল্টা হামলার এই পরিস্থিতিতে যুদ্ধক্ষেত্রের পাশাপাশি বেসামরিক এলাকাগুলোর নিরাপত্তাও বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সর্বশেষ হামলায় নিহত ও আহতের সংখ্যা এবং ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা পরিস্থিতির ভয়াবহতাই তুলে ধরছে।