• শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
গ্যাস পেলেই চালু হবে সব সার কারখানা, বন্ধ হবে আমদানি দক্ষিণ কোরিয়াকে বিরক্ত করতে সীমান্তে মাইক বাজানোর ঘোষণা উত্তর কোরিয়ার বিএনপির ভেতরেও বট ও গুপ্ত আছে, মন্তব্য প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের ভাটারায় ডিজে পার্টিতে অভিযান, ৮৪ জনের কারাদণ্ড স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য, প্রধানমন্ত্রীর ছবিতে আপত্তিকর মন্তব্যকারী আটক মাদারীপুরে বোরকা পরে বোমা হামলা, গণপিটুনিতে যুবকের মৃত্যু দাম্মাম বিমানবন্দরে হামলায় নিহত ২, আহত বাংলাদেশিসহ ৮ মাদক চালান দেখায় টেকনাফে বাড়িতে হামলা, গুলিবিদ্ধ শিশু উত্তরায় ‘দে লাড়া’ গ্যাংয়ের সানি গ্রেফতার, ৭ মামলার তথ্য আসামে উচ্ছেদ অভিযানে গৃহহীন ১১০০ মুসলিম পরিবার, ভাঙা হলো ১০ মসজিদ

দক্ষিণ কোরিয়াকে বিরক্ত করতে সীমান্তে মাইক বাজানোর ঘোষণা উত্তর কোরিয়ার

newsline24 / ১৭ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬
দক্ষিণ কোরিয়াকে বিরক্ত করতে সীমান্তে মাইক বাজানোর ঘোষণা উত্তর কোরিয়ার
দক্ষিণ কোরিয়াকে বিরক্ত করতে সীমান্তে মাইক বাজানোর ঘোষণা উত্তর কোরিয়ার

দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সীমান্তে আবারও বড় আকারের লাউডস্পিকার চালু করার ঘোষণা দিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং। একই সঙ্গে পিয়ংইয়ংয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ অব্যাহত রাখলে দক্ষিণ কোরিয়াকে ‘সবচেয়ে ভয়াবহ ও যন্ত্রণাদায়ক পরিস্থিতির’ মুখোমুখি হতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলার মধ্যেই তাঁর এই বক্তব্য কোরীয় উপদ্বীপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দেওয়া এক বিবৃতিতে কিম ইয়ো জং জানান, অক্টোবরের শেষ নাগাদ দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে পুরো সীমান্তজুড়ে উত্তর কোরিয়াবিরোধী প্রচারণার জবাবে ব্যবহৃত লাউডস্পিকারগুলো সক্রিয় করা হবে। এর আগে বুধবার রাতে জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে সীমান্ত এলাকার সেনা দুর্গ ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পরিদর্শন করেন তিনি। জাপান টাইমসের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

কিম ইয়ো জংয়ের অভিযোগ, উত্তর কোরিয়ার কৌশলগত সামরিক ইউনিটগুলো সীমান্ত এলাকায় নতুন অবস্থান নিয়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার সেনারা সেখানে উসকানিমূলক বার্তা প্রচার করেছে এবং কয়েকটি স্থানে সতর্কতামূলক ফাঁকা গুলি ছুড়েছে। এসব পদক্ষেপকে উত্তর কোরিয়ার নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে পিয়ংইয়ং।

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ার সতর্কতামূলক গুলিতে উত্তর কোরিয়ার ভূখণ্ড বা কোনো সেনাসদস্য ক্ষতিগ্রস্ত হলে দক্ষিণ কোরীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে বিনা দ্বিধায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁর বক্তব্যে সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা প্রকাশ পেয়েছে।

পাল্টা জবাবের ঘোষণা দক্ষিণ কোরিয়ার

উত্তর কোরিয়ার হুমকির জবাবে দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় তাদের পদক্ষেপ আইনসম্মত ও আত্মরক্ষামূলক। দেশটির প্রতিরক্ষা ও একীভূতকরণ মন্ত্রণালয় পিয়ংইয়ংকে আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জাতিসংঘ কমান্ডের সহায়তায় অসামরিকীকৃত অঞ্চল বা ডিমিলিটারাইজড জোনের (ডিএমজেড) নিয়ন্ত্রণ জোরদার করতে সিউল যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তা কার্যকর হচ্ছে বলেই কিম ইয়ো জং এমন প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। উত্তর কোরিয়া লাউডস্পিকার চালুসহ ঘোষিত হুমকি বাস্তবায়ন করলে দক্ষিণ কোরিয়াও পরিস্থিতি অনুযায়ী সমানুপাতিক ও উপযুক্ত জবাব দেবে বলে জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

দুই দেশের সীমান্তে লাউডস্পিকার ব্যবহার দীর্ঘদিনের বিরোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এসব যন্ত্রের মাধ্যমে প্রচারিত বার্তা শুধু তথ্য বা সংবাদ ছড়ানোর মাধ্যম নয়; প্রতিপক্ষের জনগণ ও সেনাসদস্যদের মনস্তাত্ত্বিকভাবে প্রভাবিত করার কৌশল হিসেবেও ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ফলে সীমান্তে আবারও এই প্রচারব্যবস্থা চালু হলে সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি মনস্তাত্ত্বিক সংঘাতও বাড়তে পারে।

উত্তেজনা কমানোর উদ্যোগে নতুন ধাক্কা

কিম ইয়ো জংয়ের হুঁশিয়ারিকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ংয়ের দুই দেশের বৈরিতা কমানোর প্রচেষ্টার জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২৫ সালের জুনে দায়িত্ব নেওয়ার পর লি সীমান্তে উত্তেজনা কমানো এবং পারস্পরিক আস্থা বাড়ানোর উদ্যোগ নেন। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়া সীমান্তে লাউডস্পিকারের মাধ্যমে প্রচার বন্ধ করে দেয় এবং স্থাপন করা স্পিকারগুলো সরিয়ে ফেলে।

দক্ষিণ কোরিয়ার এসব পদক্ষেপের জবাবে উত্তর কোরিয়াও সীমান্তে প্রচারণা বন্ধ রেখেছিল। তবে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ তেমন অগ্রগতি পায়নি। পিয়ংইয়ং আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে আসছে। একই সঙ্গে ২০২৪ সাল থেকে সীমান্ত এলাকায় স্থায়ী দেয়াল নির্মাণ, মাইন স্থাপন ও কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত এলাকায় মাইন বিস্ফোরণে দক্ষিণ কোরিয়ার দুই সেনা গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনাও দুই দেশের মধ্যে বিরোধ বাড়িয়েছে। সিউল এ ঘটনায় উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করলেও পিয়ংইয়ং অভিযোগ অস্বীকার করেছে। উত্তর কোরিয়া ঘটনাটিকে ‘বানানো গল্প’ বলে দাবি করেছে। পাল্টাপাল্টি অভিযোগের কারণে সীমান্তে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে অবিশ্বাস আরও গভীর হয়েছে।

লাউডস্পিকার চালুর ঘোষণা কি তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ?

কিম ইয়ো জংয়ের ঘোষণার পরও সীমান্তজুড়ে লাউডস্পিকারগুলো অবিলম্বে চালু হবে কি না, তা নিশ্চিত নয়। দক্ষিণ কোরিয়ার কিউংনাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লিম উল-চুলের মতে, এই হুমকির অর্থ এই নয় যে উত্তর কোরিয়া সঙ্গে সঙ্গেই প্রচারব্যবস্থা চালু করবে। তবে ঘোষণাটি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ংয়ের প্রশাসনের সামনে বড় রাজনৈতিক ও সামরিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যকার বর্তমান বৈরিতার ঐতিহাসিক পটভূমিও গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৫০ থেকে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত চলা কোরীয় যুদ্ধ একটি যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে শেষ হয়। এরপর থেকেই ডিমিলিটারাইজড জোন দুই দেশকে কার্যত পৃথক করে রেখেছে। অঞ্চলটি অসামরিকীকৃত হিসেবে পরিচিত হলেও এর আশপাশে দুই পক্ষের সামরিক উপস্থিতি এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অতীতে দক্ষিণ কোরিয়া সীমান্তের লাউডস্পিকারে জনপ্রিয় কে-পপ গান, সংবাদ এবং উত্তর কোরিয়ার নেতৃত্বের সমালোচনামূলক বার্তা প্রচার করত। এসব প্রচারণাকে পিয়ংইয়ং নিজেদের বিরুদ্ধে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ হিসেবে বিবেচনা করে। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে উত্তর কোরিয়াও বিভিন্ন সময়ে লাউডস্পিকার ব্যবহার করেছে এবং সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা বাড়িয়েছে।

এবার উত্তর কোরিয়া ঘোষিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন করলে দক্ষিণ কোরিয়ার সামনে দুটি বিষয় একসঙ্গে সামলানোর চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে—একদিকে সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অন্যদিকে উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে রেখে কূটনৈতিক যোগাযোগের সুযোগ ধরে রাখা। সিউল কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানায় এবং পিয়ংইয়ং শেষ পর্যন্ত কতটা কঠোর অবস্থান নেয়, তার ওপরই আগামী দিনে পরিস্থিতির গতিপথ অনেকটা নির্ভর করবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category