• শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৫১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
গ্যাস পেলেই চালু হবে সব সার কারখানা, বন্ধ হবে আমদানি দক্ষিণ কোরিয়াকে বিরক্ত করতে সীমান্তে মাইক বাজানোর ঘোষণা উত্তর কোরিয়ার বিএনপির ভেতরেও বট ও গুপ্ত আছে, মন্তব্য প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের ভাটারায় ডিজে পার্টিতে অভিযান, ৮৪ জনের কারাদণ্ড স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য, প্রধানমন্ত্রীর ছবিতে আপত্তিকর মন্তব্যকারী আটক মাদারীপুরে বোরকা পরে বোমা হামলা, গণপিটুনিতে যুবকের মৃত্যু দাম্মাম বিমানবন্দরে হামলায় নিহত ২, আহত বাংলাদেশিসহ ৮ মাদক চালান দেখায় টেকনাফে বাড়িতে হামলা, গুলিবিদ্ধ শিশু উত্তরায় ‘দে লাড়া’ গ্যাংয়ের সানি গ্রেফতার, ৭ মামলার তথ্য আসামে উচ্ছেদ অভিযানে গৃহহীন ১১০০ মুসলিম পরিবার, ভাঙা হলো ১০ মসজিদ

গ্যাস পেলেই চালু হবে সব সার কারখানা, বন্ধ হবে আমদানি

newsline24 / ১৩ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬
গ্যাস পেলেই চালু হবে সব সার কারখানা, বন্ধ হবে আমদানি
গ্যাস পেলেই চালু হবে সব সার কারখানা, বন্ধ হবে আমদানি

দেশের সব সার কারখানা দ্রুত চালু করে ইউরিয়া সারের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়াতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি)। সরকারি সার কারখানাগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদনে ফিরতে পারলে দেশের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত সার রপ্তানির সুযোগও তৈরি হবে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান মো. বাবুল মিঞা।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ সার কারখানা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় কারখানাটির বর্তমান পরিস্থিতি, গ্যাসসংকট এবং উৎপাদন পুনরায় শুরুর সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন বিসিআইসি চেয়ারম্যান।

গ্যাসসংকটের কারণে ২০২৫ সালের ১ মার্চ থেকে আশুগঞ্জ সার কারখানার উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে কারখানাটি বন্ধ থাকায় এর উৎপাদন সক্ষমতা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। তবে চলতি ২০২৬ সালেই গ্যাস সরবরাহ পাওয়া গেলে কারখানাটিতে আবার উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বাবুল মিঞা।

তিনি বলেন, বিসিআইসির অধীন সার কারখানাগুলো সচল করাই তাঁদের লক্ষ্য। বর্তমানে দেশের চাহিদা পূরণে বিপুল পরিমাণ ইউরিয়া সার আমদানি করতে হয়। অথচ পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে দেশীয় কারখানাগুলোতেই চাহিদা অনুযায়ী সার উৎপাদন করা সম্ভব। এমনকি উৎপাদন সক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত সার রপ্তানিও করা যেতে পারে।

বিসিআইসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘বিসিআইসির কারখানাগুলোকে আমরা সচল করতে চাই। আমাদের ২৬-২৭ লাখ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার আমদানি করতে হয়। আমাদের কারখানাগুলো যদি সচল থাকে, আমরা যদি কারখানাগুলোতে গ্যাস সরবরাহ পাই, তাহলে আমরা দেশের চাহিদার পরিমাণ উৎপাদন করেও রপ্তানি করার সক্ষমতা রাখি।’

তিনি আরও বলেন, কারখানাগুলো চালুর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা গ্যাসের সংকট। এ সমস্যা সমাধান করে প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার মাধ্যমে উৎপাদন কার্যক্রম পুনরায় চালু করতে চায় সরকার। কারখানাগুলো সচল করা সম্ভব হলে সার আমদানির প্রয়োজন থাকবে না বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

দেশে ইউরিয়া সারের চাহিদা পূরণে আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানো সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক বিষয়। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সার কিনতে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হয়। অন্যদিকে দেশীয় কারখানাগুলোতে উৎপাদন বাড়ানো গেলে আমদানির চাপ কমানোর পাশাপাশি সরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা কাজে লাগানো সম্ভব হবে। তবে এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।

কৃষি উৎপাদনে ইউরিয়া সার গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ হওয়ায় এর সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হলে কৃষকদের ওপর চাপ বাড়তে পারে। তাই দেশীয় উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সার সরবরাহ নিশ্চিত করা কৃষি খাতের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। তবে আশুগঞ্জসহ অন্যান্য কারখানা কবে নাগাদ পুরোপুরি উৎপাদনে ফিরবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সূচি জানাননি বিসিআইসি চেয়ারম্যান।

আশুগঞ্জ সার কারখানা পরিদর্শনের সময় বিসিআইসি চেয়ারম্যানের সঙ্গে কারখানাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ মো. আলী আশরাফ, উপমহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) তাজুল ইসলাম ভূঁইয়া এবং প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category