বুধবার (২১ অক্টোবর) ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের উত্তরা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইলিয়াস কবির এ তথ্য জানান।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভ্রাম্যমাণ আদালতের রায়ে পুরুষদের এক মাসের কারাদণ্ডের পাশাপাশি এক হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। অন্যদিকে, নারীদের ১৫ দিনের কারাদণ্ড এবং ৫০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়। নির্ধারিত জরিমানা দিতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আরও তিন দিন কারাভোগ করতে হবে।
ডিসি ইলিয়াস কবির জানান, বাড়িটিতে ২০২৫ সাল থেকে এ ধরনের ডিজে পার্টির আয়োজন হয়ে আসছিল। প্রতি মাসে সেখানে প্রায় ২০ থেকে ২২টি অনুষ্ঠান হতো। অর্থাৎ, নিয়মিতভাবে এসব আয়োজন পরিচালিত হয়ে আসছিল বলে পুলিশের বক্তব্যে উঠে এসেছে।
তিনি জানান, বাড়িভাড়া বাবদ ১০ জনের প্রত্যেকের কাছ থেকে ১৮ হাজার ৫০০ টাকা করে নেওয়া হতো। এ হিসাবে ওই ১০ জনের কাছ থেকে বাড়িভাড়া বাবদ মোট ১ লাখ ৮৫ হাজার টাকা আদায় করা হতো। তবে এই অর্থ কোন সময়সীমার জন্য নেওয়া হতো, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে অংশ নিতে নিবন্ধনকারীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৬০০ টাকা নেওয়া হতো। ফলে বাড়িভাড়ার পাশাপাশি অনুষ্ঠানকেন্দ্রিক নিবন্ধন থেকেও অর্থ সংগ্রহের ব্যবস্থা ছিল বলে পুলিশের বক্তব্যে জানা গেছে। তবে প্রতিটি অনুষ্ঠানে কতজন অংশ নিতেন কিংবা নিবন্ধন থেকে মোট কত টাকা আয় হতো, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট হিসাব প্রকাশ করা হয়নি।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানের সময় সেখানে ২৬ জন তরুণী ছিলেন। তাঁদের অধিকাংশের বয়স ২০ থেকে ২২ বছরের মধ্যে। অভিযানে মোট ৮৪ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপির এই কর্মকর্তা।
ঘটনাটির পর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। তবে মামলায় ঠিক কী ধরনের মাদক উদ্ধার করা হয়েছে, কত পরিমাণ মাদক পাওয়া গেছে কিংবা কার কাছ থেকে তা উদ্ধার হয়েছে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি। একইভাবে, সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকসংক্রান্ত অভিযোগের সুনির্দিষ্ট বিবরণও প্রকাশিত বক্তব্যে স্পষ্ট করা হয়নি।
ভাটারার এই বাড়িটি পুলিশের একজন অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শকের (অতিরিক্ত ডিআইজি) ভাড়া দেওয়া বলে উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। তবে বাড়ির মালিক হিসেবে পরিচিত ওই পুলিশ কর্মকর্তার নাম, তিনি আয়োজন সম্পর্কে অবগত ছিলেন কি না এবং অনুষ্ঠান পরিচালনার সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা ছিল কি না—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি নিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে যেসব তথ্য জানানো হয়েছে, তার ভিত্তিতে ডিজে পার্টির নিয়মিত আয়োজন, অর্থ সংগ্রহের পদ্ধতি এবং মাদক আইনে মামলার বিষয়গুলো সামনে এসেছে। মামলার তদন্তে অনুষ্ঠানগুলোর প্রকৃত ধরন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং মাদকসংক্রান্ত অভিযোগের বিস্তারিত তথ্য আরও স্পষ্ট হওয়ার কথা।