বৃহস্পতিবার (২০ অক্টোবর) সকালে বগুড়ার মম-ইন হোটেলের কনভেনশন সেন্টারে ‘বগুড়ার উন্নয়ন সম্ভাবনা, সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এক মতবিনিময়সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় বগুড়ার উন্নয়ন, স্থানীয় সমস্যা ও বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি রাজনৈতিক সমালোচনা এবং ইউনিয়নের নামকরণ নিয়ে আলোচিত বিষয়গুলো উঠে আসে। এ সময় নিজের সন্তানদের নামের সঙ্গে মিল রেখে একটি ইউনিয়নের নামকরণ করা হয়েছিল—এমন সমালোচনার জবাব দেন প্রতিমন্ত্রী।
মীর শাহে আলম বলেন, ইউনিয়নের নামকরণের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত কোনো স্বার্থ জড়িত ছিল না। স্থানীয় এলাকার মানুষই তাঁর সন্তানদের নাম অনুসারে সীমান্ত ও দিগন্ত নাম রেখেছিলেন। তবে এ নিয়ে সমালোচনার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁকে জানান এবং নাম পরিবর্তনের কথা বলেন। পরে ইউনিয়নটির নাম পরিবর্তন করা হয়। বর্তমানে ইউনিয়নটির নাম জগন্নাথপুর।
নামকরণ নিয়ে সমালোচনার প্রসঙ্গে বিভিন্ন এলাকার নামের উদাহরণ তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বগুড়ার জহরুল নগরের নামকরণ করা হয়েছে সাবেক মেয়র জহরুল সাহেবের নামে। এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, জহরুল সাহেব কি কবরস্থান থেকে উঠে এসে ওই শহর ভোগ করছেন?
তিনি আরও বলেন, ঢাকার মিরপুর, মুন্সিগঞ্জের মিরকাদিম পৌরসভা কিংবা ঢাকার মীরের বাগ—এসব নাম তাঁর বংশের নামে রাখা হয়নি। এসব উদাহরণ টেনে তিনি দাবি করেন, বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে আক্রমণ করার উদ্দেশ্যে তুচ্ছ বিষয় নিয়েও সমালোচনা করা হচ্ছে।
সমালোচনার জবাব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মীর শাহে আলম সীমান্তে সংঘাতের উদাহরণও দেন। তিনি বলেন, সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ ও বাংলাদেশের বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মধ্যে সংঘাত হলে তার দায় তাঁর ছেলের ওপর চাপানো যায় না। নামকরণ বা পারিবারিক পরিচয়কে কেন্দ্র করে সমালোচনা করার ক্ষেত্রে বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বগুড়ার উন্নয়ন নিয়ে প্রতিমন্ত্রীর অঙ্গীকার
রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি বগুড়ার উন্নয়ন পরিকল্পনার বিষয়েও বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বগুড়ার উন্নয়নের ক্ষেত্রে এক বিন্দুও ছাড় দেওয়া হবে না। গত ২০ বছরে এ অঞ্চলে যে উন্নয়ন ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা পূরণ করতে চায় সরকার।
এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বগুড়ার ছয়জন সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা সরকারের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে জানান তিনি। তাঁর মতে, স্থানীয় সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে উন্নয়নের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি।
বগুড়া উত্তরাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা। এ অঞ্চলের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে যোগাযোগব্যবস্থা, নাগরিক সেবা, স্থানীয় অবকাঠামো এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নের মতো বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ। তবে এসব ক্ষেত্রে কী কী প্রকল্প নেওয়া হবে, কোন খাতে কত অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হবে কিংবা উন্নয়ন ঘাটতি পূরণে কী ধরনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হবে—মতবিনিময়সভায় সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়নি।
প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে একদিকে রাজনৈতিক সমালোচনার জবাব দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে, অন্যদিকে বগুড়ার দীর্ঘদিনের উন্নয়ন ঘাটতি পূরণের অঙ্গীকারও উঠে এসেছে। এখন সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের আলোচনার মাধ্যমে এসব পরিকল্পনা কীভাবে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।