বুধবার (২১ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের মিনাবাজার এলাকায় হাফেজ জয়নালের বসতবাড়িতে এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহত দুই শিশু হলো রাজা মিয়ার ছেলে আহমেদ নুর এবং মোস্তাকের ছেলে আরাফাত। তারা দুজনই মিনাবাজার এলাকার বাসিন্দা।
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় মাদক পাচারের একটি দৃশ্য দেখে ফেলার পর থেকেই হামলার পরিস্থিতি তৈরি হয়। ওই ঘটনার জের ধরে সশস্ত্র ব্যক্তিরা বাড়িতে ঢুকে হামলা চালায় বলে দাবি স্বজনদের।
হাফেজ জয়নাল জানান, বুধবার সন্ধ্যায় তার ভাতিজা মোস্তাক হোয়াইক্যংয়ের মিনাবাজার সীমান্তসংলগ্ন একটি খালে জাঁকিজাল দিয়ে মাছ ধরতে যান। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তিনি সীমান্ত পেরিয়ে মিনাবাজার এলাকার ইউসুফ আলীর দুই ছেলে মান্নান ও সালেহকে মাদকের চালান নিয়ে আসতে দেখেন বলে অভিযোগ করেন জয়নাল। এ দৃশ্য দেখে ভীত হয়ে মোস্তাক দ্রুত বাড়িতে ফিরে আসেন।
জয়নালের ভাষ্য অনুযায়ী, মোস্তাকের বাড়িতে ফেরার খবর পেয়ে রাত সাড়ে ৮টার দিকে মান্নান ও সালেহর নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি তাদের বাড়িতে প্রবেশ করে। এ সময় তারা গুলিবর্ষণ ও হামলা চালায়। এতে শিশু আহমেদ নুরের পেটে গুলি লাগে। আরাফাত ছুরিকাঘাতে আহত হয়।
হঠাৎ এমন হামলায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কায় জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে সহায়তা চাওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে আসছে—এমন খবর পেয়ে হামলাকারীরা সেখান থেকে পালিয়ে যায় বলে জানান হাফেজ জয়নাল।
হামলার পর আহত দুই শিশুকে উদ্ধার করে প্রথমে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় তাদের। পরে গুলিবিদ্ধ আহমেদ নুরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। অন্যদিকে, ছুরিকাঘাতে আহত আরাফাত কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
একটি শিশুর পেটে গুলি লাগার ঘটনায় পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে আহতদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যায়নি।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক হাফিজ জানান, জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, মিনাবাজারে হামলার ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মান্নান ও সালেহর দলের কাউকে এলাকায় পাওয়া যায়নি। ফলে তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
সীমান্তবর্তী টেকনাফে মাদক পাচারকে কেন্দ্র করে এমন সহিংসতার অভিযোগ স্থানীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে এ ঘটনায় কারা সরাসরি জড়িত, হামলার পেছনে প্রকৃত কারণ কী এবং অভিযোগের সত্যতা কতটুকু—তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। পুলিশের আইনগত পদক্ষেপের পাশাপাশি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আহত শিশুদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা এখন গুরুত্বপূর্ণ।