নিহতরা হলেন মৈকুলী এলাকার বাসিন্দা মনির হোসেনের স্ত্রী শাহনাজ বেগম (৫৫) এবং একই এলাকার জসিম উদ্দিনের ছেলে রিফাত হোসেন (২০)। দুর্ঘটনায় একই এলাকার আরও তিনজন আহত হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের মৈকুলী এলাকায় সিলেটগামী একটি মালবাহী ট্রাকের সঙ্গে রূপসীগামী ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ট্রাকটির নিবন্ধন নম্বর সাতক্ষীরা-ট-১১-০৬৯১। সংঘর্ষের তীব্রতায় অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে অটোরিকশায় থাকা যাত্রীরা হতাহত হন এবং শাহনাজ বেগম ও রিফাত হোসেন ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। তাঁদের মধ্যে তিনজন আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তাঁদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভুলতা হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর জসিম উদ্দিন দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দুর্ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়।
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএইচএম সালাউদ্দিন জানান, নিহত দুজনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ মর্গে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার পর মালবাহী ট্রাকটি আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
মহাসড়কে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক দেশের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগপথগুলোর একটি। এই মহাসড়কে ভারী যানবাহনের পাশাপাশি অটোরিকশাসহ বিভিন্ন ধরনের যান চলাচল করে। ফলে যানবাহনের গতির পার্থক্য, মুখোমুখি সংঘর্ষের ঝুঁকি এবং সড়কে চলাচলের নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করা নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে ব্যস্ত সড়কে ভারী যানবাহন চলাচলের সময় সতর্কতা, নির্ধারিত লেন অনুসরণ এবং ঝুঁকিপূর্ণভাবে অন্য যানবাহনকে অতিক্রম করা থেকে বিরত থাকা দুর্ঘটনার আশঙ্কা কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে রূপগঞ্জের মৈকুলী এলাকায় ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
একই ঘটনায় দুজনের মৃত্যু ও তিনজনের আহত হওয়ার ঘটনা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ট্রাকটি আটক করা হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।