শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য বলে মনে করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে চলতি বছর তাঁকে এই পুরস্কার দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে নিজেই সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তিনি। বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ মন্তব্য করেন ট্রাম্প।
শুক্রবার চলতি বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কারের বিজয়ীর নাম ঘোষণা করার কথা রয়েছে। পুরস্কারটি এবার তাঁর ভাগ্যে জুটবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, নোবেল কমিটির সিদ্ধান্ত কী হবে, তা তিনি জানেন না। তাঁর ভাষ্য, তাঁর মতো ব্যক্তিদের পুরস্কার না দেওয়ার ক্ষেত্রে নোবেল কমিটির একটি সুনাম রয়েছে।
গত বছর হোয়াইট হাউসে দ্বিতীয় মেয়াদে ফেরার পর থেকেই নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার দাবি বারবার করে আসছেন ট্রাম্প। বুধবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময়ও তিনি বলেন, ‘এখনই সময়।’ এ সময় গতবারের নোবেল শান্তি পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তির কাছ থেকে পাওয়া পরোক্ষ সম্মানের বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি।
ভেনেজুয়েলার নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো গত জানুয়ারিতে তাঁর নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদক ট্রাম্পকে দেন। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি পদকটি ট্রাম্পের হাতে তুলে দেন।
ট্রাম্পের দাবি, কম্বোডিয়া, ইসরায়েল ও পাকিস্তানের নেতারা তাঁকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দিয়েছেন। তবে এসব মনোনয়নের তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করার সুযোগ নেই। একই সঙ্গে ট্রাম্প যেসব সংঘাত নিরসনে নিজের কূটনৈতিক ভূমিকার কথা তুলে ধরছেন, সেসব উদ্যোগ নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে। তাঁর মধ্যস্থতার সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি অঞ্চলে আবারও সংঘাত দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে কঙ্গো প্রজাতন্ত্র এবং কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ড সীমান্তের পরিস্থিতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এখনো শেষ করতে পারেননি ট্রাম্প। দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই যুদ্ধটি শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। পাশাপাশি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর সাত মাস ধরে চলা সংঘাত বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহেও বড় প্রভাব ফেলেছে।
চলতি বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কারের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় পোপ লিও, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদকের নামও রয়েছে।