ঢাকার ফরিদাবাদ আইজি গেট এলাকায় উচ্ছেদ করা সরকারি জায়গায় আগামী এক মাসের মধ্যে খেলার মাঠ নির্মাণ করা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। একই সঙ্গে মাঠসংলগ্ন এলাকায় নতুন রাস্তা নির্মাণ এবং জায়গা পর্যাপ্ত থাকলে কমিউনিটি সেন্টার করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর ফরিদাবাদ সংলগ্ন বাংলাদেশ ব্যাংক কলোনি এলাকায় বৃক্ষরোপণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, মশক নিয়ন্ত্রণ, ফুটপাত ও সড়ক উন্নয়ন কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন ডিএসসিসি প্রশাসক।
মো. আবদুস সালাম বলেন, সরকারি ওই জায়গাটি প্রায় ৪৮ থেকে ৫০ বছর ধরে দখল করে অবৈধ বস্তি গড়ে তোলা হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে স্থানটি এলাকায় মাদকের আড্ডা ও বিক্রির কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। উচ্ছেদ অভিযানের পর সেই জায়গা দখলমুক্ত হয়েছে। এখন সেখানে শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার সুযোগ তৈরি করতে মাঠ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
ডিএসসিসি প্রশাসক জানান, এক মাস পর নির্মিত খেলার মাঠটি উদ্বোধন করবেন তিনি। পাশাপাশি মাঠের আশপাশের যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করতে নতুন রাস্তা নির্মাণ করা হবে। জায়গার পরিমাণ পর্যাপ্ত হলে স্থানীয় মানুষের প্রয়োজন বিবেচনায় সেখানে একটি কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
উচ্ছেদ অভিযানে সহযোগিতার জন্য ওয়ারী জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার মল্লিক আহসান উদ্দিন সামিসহ সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান তিনি। একই সঙ্গে এলাকার তরুণ সমাজ ও বাসিন্দাদের জনকল্যাণমূলক কাজে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান।
মো. আবদুস সালাম বলেন, মাদকমুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলতে পুলিশ ও প্রশাসনকে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতা করতে হবে। প্রশাসন আন্তরিকভাবে কাজ করলে এবং এলাকার মানুষ ঐক্যবদ্ধ থাকলে অনেক কঠিন কাজও বাস্তবায়ন করা সম্ভব।
এ সময় তিনি এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ও জনগণের পাশে থেকে কাজ করার জন্য বিএনপির সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দেন।
৪৭ নম্বর ওয়ার্ডের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের তথ্য তুলে ধরে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, বর্তমানে ওয়ার্ডটিতে ১১ কোটি টাকার উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে। এর বাইরে নতুন করে আরও ৪ কোটি টাকার কাজ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে এই ওয়ার্ডে মোট ১৫ কোটি টাকার উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন হচ্ছে।
পরিদর্শনের সময় উচ্ছেদ করা জায়গায় নিজ হাতে বৃক্ষরোপণ করেন ডিএসসিসি প্রশাসক। পরে বাংলাদেশ ব্যাংক কলোনি এলাকায় মশার লার্ভা ধ্বংসে লার্ভিসাইডিং কার্যক্রমেও অংশ নেন তিনি।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে নগরবাসীর সচেতনতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি নিজ নিজ বাড়ি ও আঙিনা পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানান। কোথাও যেন টানা তিন দিনের বেশি পানি জমে না থাকে, সেদিকেও সবাইকে নজর রাখার পরামর্শ দেন তিনি।