বগুড়ার আদমদীঘিতে একটি ফার্মেসিতে ওষুধ চুরির অভিযোগে এক যুবককে আটক করার পর তাঁকে ১০০ রাকাত নফল নামাজ পড়ানো হয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার সান্তাহার পূর্ব ঢাকা রোড এলাকার তাজ ফার্মেসি অ্যান্ড মেডিসিন শপে এ ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে ওই যুবককে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
আটক যুবকের নাম মো. আলামিন (৩০)। তিনি উপজেলার ছাতিয়ান গ্রামের আশরাফুল ইসলামের ছেলে।
ফার্মেসির মালিক জহুরুল ইসলাম জানান, বুধবার দুপুর ১২টার দিকে তিনি দোকান খোলা রেখে কিছু সময়ের জন্য বাথরুমে যান। এ সুযোগে আলামিন দোকানের ভেতরে ঢুকে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
দোকানের গেটের কাছে থাকা একটি চেয়ারের ওপর দাঁড়িয়ে আলামিন ওষুধ নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। একপর্যায়ে তাঁর নিচে থাকা চেয়ারটি ভেঙে যায়। এতে তিনি মাটিতে পড়ে যান। শব্দ ও ঘটনাটি টের পেয়ে পাশের দোকানের ব্যবসায়ী মাসুদ দ্রুত সেখানে ছুটে এসে তাঁকে আটক করেন।
খবর পেয়ে আশপাশের লোকজনও ঘটনাস্থলে জড়ো হন। স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে আলামিন ওষুধ নেওয়ার কথা স্বীকার করেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। এরপর তাঁকে কী ধরনের শাস্তি দেওয়া হবে, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা হয়।
পাশের কীটনাশকের দোকানি জিল্লুর রহমান মামুন বলেন, স্থানীয় লোকজনের মধ্যে কেউ কেউ আলামিনকে মারধর করতে চেয়েছিলেন। পরিস্থিতি যেন উত্তপ্ত না হয়, সে কারণে তাঁকে মারধর না করে ১০০ রাকাত নফল নামাজ পড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, আলামিনকে দীর্ঘ সময় নামাজ পড়ানো হলে তিনি নিজের ভুল বুঝতে পারবেন এবং ভবিষ্যতে চুরির মতো অপরাধ থেকে বিরত থাকবেন—এমন উদ্দেশ্যেই তাঁকে ওই নামাজ পড়তে বলা হয়। পরে তিনি ১০০ রাকাত নফল নামাজ পড়েন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
ঘটনার পর আলামিনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে তাঁকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে চুরি হওয়া ওষুধের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ বা আর্থিক মূল্য সম্পর্কেও কোনো তথ্য জানা যায়নি।
ঘটনাটি স্থানীয় এলাকায় আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সাধারণত চুরির অভিযোগে আইনগত প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকলেও এ ঘটনায় স্থানীয়রা নিজেরাই একটি ভিন্ন ধরনের শাস্তির পথ বেছে নেন। তাঁকে মারধর না করে নামাজ পড়ানোর মাধ্যমে ভবিষ্যতে অপরাধ থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করা হয়েছে বলে স্থানীয়দের বক্তব্য।
তবে কোনো অপরাধের অভিযোগ উঠলে আইনগত প্রক্রিয়ায় বিষয়টি নিষ্পত্তি করাই স্বাভাবিক ও গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি। এ ঘটনায় স্থানীয়দের তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তের পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতিতে আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর গুরুত্বও সামনে এসেছে।