• শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৫২ অপরাহ্ন

প্রধানমন্ত্রী তারেকের দিল্লি সফর, ফের সক্রিয় ঢাকা-দিল্লি

newsline24 / ১০ Time View
Update : শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
তারেকের দিল্লি সফর নিয়ে নতুন করে আলোচনায় ঢাকা-দিল্লি
তারেকের দিল্লি সফর নিয়ে নতুন করে আলোচনায় ঢাকা-দিল্লি

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য নয়াদিল্লি সফরকে সামনে রেখে ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে আবারও আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক যোগাযোগ জোরদার হয়েছে। সাম্প্রতিক টানাপোড়েন কাটিয়ে সফরের সম্ভাব্য সময়, আলোচ্যসূচি এবং দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে কর্মকর্তারা নতুন করে কাজ শুরু করেছেন বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু। বাংলাদেশের কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নভেম্বরের কোনো সুবিধাজনক সময়ে সফরটি আয়োজনের বিষয়ে আলোচনা চলছে।

প্রস্তাবিত এই সফরকে শুধু সৌজন্য সফর হিসেবে দেখা হচ্ছে না। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করা, পানি বণ্টনসহ দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিষয় নিয়ে আলোচনা এবং সামগ্রিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন কাঠামোয় এগিয়ে নেওয়ার বিষয়গুলো সফরের সম্ভাব্য এজেন্ডায় গুরুত্ব পেতে পারে। এর আগে দ্য হিন্দু-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, সফরের আগে একটি সুনির্দিষ্ট ও ফলপ্রসূ আলোচ্যসূচি ঠিক করতে আগ্রহী ঢাকা। সফর শেষে জনগণের সামনে তুলে ধরার মতো দৃশ্যমান অগ্রগতি থাকা উচিত—এমন প্রত্যাশার কথাও কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে উঠে এসেছে।

নভেম্বরকে সামনে রেখে প্রস্তুতি

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে চলতি মাসে নিউইয়র্ক সফরের কর্মসূচি রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। এর পরও অক্টোবর ও নভেম্বরজুড়ে তাঁর একাধিক কূটনৈতিক ব্যস্ততা রয়েছে। এসব কর্মসূচির মধ্যেই দিল্লি সফরের জন্য উপযুক্ত সময় নির্ধারণের চেষ্টা চলছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীও এরই মধ্যে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে ধারাবাহিক বৈঠক করছেন। ১০ আগস্ট তিনি প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ওই বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এরপর তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন।

জুলাইয়ের শেষ দিকে ত্রিবেদী বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারত সফর করলে দুই দেশের সম্পর্ক ও অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে গঠনমূলকভাবে এগোনোর সুযোগ তৈরি হবে। তবে সেপ্টেম্বরের শুরুতে তিনি স্পষ্ট করেন, সফরের সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিজস্ব এখতিয়ার।

সম্পর্কের টানাপোড়েনের পেছনে একাধিক ইস্যু

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে নানা বিষয়ে মতপার্থক্য তৈরি হয়। বিশেষ করে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে দুই দেশের অবস্থান, প্রত্যর্পণ প্রশ্ন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য ও ভিসা কার্যক্রমসহ বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় রয়েছে। শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক বক্তব্যকে কেন্দ্র করেও ঢাকার পক্ষ থেকে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছিল।

এর পাশাপাশি গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নবায়ন এবং তিস্তা নদীর পানি বণ্টনের মতো দীর্ঘদিনের বিষয়ও দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালের শেষ দিকে শেষ হওয়ার কথা থাকায় এর ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ব্রিকস সম্মেলন ঘিরেও কূটনৈতিক বার্তা

সম্প্রতি ভারতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে বাংলাদেশ ওই অনুষ্ঠানে কোনো প্রতিনিধি পাঠায়নি। এর আগে ঢাকার পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে বহুপক্ষীয় আয়োজনের চেয়ে সরাসরি দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে আলোচনা অবশ্য একেবারে নতুন নয়। এর আগেও আগস্টে সম্ভাব্য সফরের সময় নিয়ে ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে যোগাযোগ হয়েছিল। বিভিন্ন সময়ে সফরের তারিখ নিয়ে আলোচনা হলেও তা চূড়ান্ত হয়নি। ফলে এবার নভেম্বরকে সামনে রেখে শুরু হওয়া নতুন আলোচনা কতটা এগোয়, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ভারতের সঙ্গে যোগাযোগের পুরোনো ধারাবাহিকতা

কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে দ্য হিন্দু জানিয়েছে, লন্ডনে অবস্থানের সময়ও তারেক রহমান ভারতের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চালিয়ে গেছেন। ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর তাঁর পক্ষ থেকে একজন প্রতিনিধিকে ভারতে পাঠানোর কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময়ে বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল আগেও দিল্লি সফর করেছিল।

২০১৮ সালে আব্দুল আউয়াল মিন্টু, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও হুমায়ুন কবীরের সমন্বয়ে একটি প্রতিনিধিদল নয়াদিল্লি সফর করে। এসব যোগাযোগ থেকে বোঝা যায়, রাজনৈতিক পরিবর্তনের বিভিন্ন পর্যায়েও বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে দুই পক্ষের যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ ছিল না।

এখন সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের সফরের ক্ষেত্রে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে—দুই দেশের সম্পর্ককে কীভাবে স্থিতিশীল ও কার্যকর পর্যায়ে নেওয়া যায় এবং দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিষয়গুলোতে বাস্তব অগ্রগতি কীভাবে আনা সম্ভব। নভেম্বরের সম্ভাব্য সফর শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত হয় কি না, তা নির্ভর করবে আলোচ্যসূচি, পারস্পরিক প্রস্তুতি এবং দুই দেশের রাজনৈতিক-কূটনৈতিক সমঝোতার ওপর।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category