• বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৪ অপরাহ্ন

কোরআন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির আশ্বাস

newsline24 / ১৩ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
কোরআন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির আশ্বাস
কোরআন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির আশ্বাস

সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের হয়ে সাফল্য অর্জনকারী চার হাফেজকে সংবর্ধনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের সন্তানরা মেধা ও যোগ্যতার মাধ্যমে ভালো কোনো অর্জন করলে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সেই সাফল্যের স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা করবে সরকার।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি বলেন, সৌদি আরব থেকে যে পুরস্কার তারা অর্জন করে এনেছেন, সেটি শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; বাংলাদেশের মুসলমানদের জন্যও এটি সম্মানের বিষয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন পর আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় সাফল্য অর্জনকারী হাফেজদের রাষ্ট্রীয়ভাবে উৎসাহ ও সম্মান জানানো হচ্ছে। দেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে যারা নিজেদের মেধা, দক্ষতা ও যোগ্যতার মাধ্যমে ভালো কিছু অর্জন করছে, তাদের স্বীকৃতি দেওয়াকে সরকারের একটি নীতি হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, মেধাবীদের যথাযথভাবে উৎসাহিত ও মূল্যায়ন করা গেলে তার সুফল শুধু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিই পাবেন না, ভবিষ্যৎ প্রজন্মও অনুপ্রাণিত হবে। এর মাধ্যমে দেশের মানুষের জন্যও ইতিবাচক ফল তৈরি হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সৌদিতে বাংলাদেশের চার হাফেজের সাফল্য

সৌদি আরবের মক্কায় অনুষ্ঠিত ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ১৩৩টি দেশের প্রতিযোগীরা অংশ নেন। প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের চারজন হাফেজ বিভিন্ন বিভাগে পুরস্কার অর্জন করেন।

হাফেজ মোহাম্মদ জাকারিয়া ১৫ পারা হিফজ, তাজবিদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেন। একই প্রতিযোগিতায় হাফেজ শেখ মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান আশরাফী ৩০ পারা হিফজ, তাজবিদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে তৃতীয় স্থান লাভ করেন।

নারী প্রতিযোগীদের মধ্যেও বাংলাদেশের সাফল্য এসেছে। হাফেজা রাবেতা বিনতে রমজান ১৫ পারা বিভাগে এবং হাফেজা মুসফিরা বিনতে মাহমুদ ৩০ পারা হিফজ, তাজবিদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন।

চার বাংলাদেশি প্রতিযোগীর এই অর্জন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতেও দেশের ছেলে-মেয়েরা আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে এবং নিজেদের পাশাপাশি দেশের জন্যও সম্মান বয়ে আনবে—এটাই সরকারের প্রত্যাশা।

আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সহযোগিতার আশ্বাস

ভবিষ্যতে এ ধরনের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে প্রয়োজনীয় সরকারি সহযোগিতার আশ্বাসও দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন হলে নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের জানাতে হবে। সরকারের পক্ষে যতটুকু সহযোগিতা করা সম্ভব, তা করার চেষ্টা করা হবে।

অনুষ্ঠানে পুরস্কারজয়ী হাফেজদের শিক্ষকরা তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে সম্ভাব্য সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষকদের পক্ষ থেকে যেসব সমস্যার কথা বলা হয়েছে, সেগুলোর সমাধানের কোনো সুযোগ বা পথ সরকারের হাতে রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। সম্ভব হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও আশ্বাস দেন তিনি।

শান্তি ও পরিবর্তনের আহ্বান

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দেশের শান্তি ও পরিবর্তনের জন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, মানুষের কাজের ধরন ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু দেশের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের ভালোভাবে বেঁচে থাকার সুযোগ তৈরি করাই সবার লক্ষ্য হওয়া উচিত।

দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে সরকারের প্রতি সহযোগিতা ও দোয়া চেয়ে তিনি বলেন, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশের জন্য ভালো কিছু পরিবর্তন আনার চেষ্টা করা হবে।

অনুষ্ঠানে বিজয়ী হাফেজদের হাতে বই উপহার দেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে প্রতিযোগিতায় যেসব সূরা তিলাওয়াত করে তারা পুরস্কার অর্জন করেছেন, সেসব সূরার আয়াতও তাদের কণ্ঠে শোনেন তিনি।

অনুষ্ঠানে ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ, প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার এবং মাওলানা রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। বিজয়ী হাফেজদের শিক্ষক কাইয়ুম মোল্ল্যা, মুঈনুদ্দীন মজুমদার, আবু বকর ও সাজেদা খাতুনও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category