• শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১৬ পূর্বাহ্ন

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘দিল বড়’ করতে সংসদে জামায়াত আমিরের দোয়া

newsline24 / ২১ Time View
Update : শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘দিল বড়’ করতে সংসদে জামায়াত আমিরের দোয়া
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘দিল বড়’ করতে সংসদে জামায়াত আমিরের দোয়া

জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের জন্য দুই হাত তুলে দোয়া করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে র‍্যাব বিলুপ্তির পর জাতীয় স্বার্থে নতুন কোনো বিশেষায়িত বাহিনী বা ব্যুরো গঠনের প্রয়োজন হলে বিরোধী দল বাধা দেবে না বলেও জানিয়েছেন তিনি। তবে নতুন বাহিনী গঠনের আগে বিষয়টি নিয়ে আরও পর্যালোচনা, আলোচনা ও বিরোধী দলকে সন্তুষ্ট করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন জামায়াত আমির।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে ‘এসআরবি বিল ২০২৬’-এর রিপোর্ট উপস্থাপনের সময় বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনায় এসব কথা বলেন শফিকুর রহমান। বিলটির রিপোর্ট দেওয়ার সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের ইতিবাচক অবস্থানের প্রশংসা করেন তিনি।

বক্তব্যের শুরুতেই ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের প্রশংসা করেন জামায়াত আমির। তিনি ডেপুটি স্পিকারকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনার মধ্যে একটা রুহানি তাজল্লি আছে।’

এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকার প্রশংসা করে শফিকুর রহমান বলেন, সাগরের মতো মহান, উদার ও বিশাল হওয়ার প্রভাব সালাহউদ্দিন আহমদের ওপর পড়েছে বলেই তিনি রিপোর্ট প্রদানের সময় দুই দিন থেকে চার দিন, পাঁচ দিন পর্যন্ত এগিয়ে দিয়েছেন। এ জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে তিনি অভিনন্দন জানান।

এরপর সংসদে দাঁড়িয়ে দুই হাত তুলে মোনাজাতের ভঙ্গিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জন্য দোয়া করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, ‘হে রাব্বুল আলামিন, তুমি উনার দিলটাকে অনেক বড় করে দাও। আল্লাহ তায়ালা, জাতির স্বার্থেই বড় করে দিন।’

এ সময় নিজ আসনে বসা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে ‘আমিন’ বলতে এবং পরে মুখে হাত বুলাতে দেখা যায়। শফিকুর রহমানের বক্তব্যের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হাসিমুখে প্রতিক্রিয়া জানান এবং বিরোধীদলীয় নেতার আবেগ ও অনুভূতিকে ধারণ করার কথা বলেন।

তবে বক্তব্যের বড় একটি অংশজুড়ে ছিল র‍্যাব বিলুপ্তির পর সম্ভাব্য নতুন বিশেষায়িত বাহিনী গঠনের বিষয়টি। এ প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বিরোধী দলের অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন, জাতির স্বার্থে কোনো বিশেষায়িত বাহিনী বা ব্যুরো গঠনের প্রয়োজন হলে তারা বাধা দেবেন না। তবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সন্তুষ্ট করা এবং যথেষ্ট পর্যালোচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

শফিকুর রহমান বলেন, ‘একবার আমাদের চুন খেয়ে গাল ঘা হয়েছে, এখন দই দেখলেও ভয় লাগে।’ তার ভাষ্য, এই ভয় শুধু বিরোধী দলের নয়, গোটা জাতির। র‍্যাবের অতীত কর্মকাণ্ডের কারণে মানুষের মধ্যে যে ট্রমা তৈরি হয়েছে, নতুন কোনো বাহিনী গঠনের ক্ষেত্রে সেই অভিজ্ঞতাকেও বিবেচনায় নেওয়া দরকার।

র‍্যাবের বিরুদ্ধে অতীতে ওঠা মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের প্রসঙ্গও টেনে আনেন তিনি। নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, র‍্যাবের মাধ্যমে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘনের অভিযোগের একটি জ্বলন্ত উদাহরণ ওই ঘটনা। এ ধরনের নানা ঘটনার ভুক্তভোগী হিসেবে দেশের মানুষকে তিনি উল্লেখ করেন।

এ কারণে বিলটি আরও কিছুটা সময় নিয়ে, বাস্তবধর্মী ও ব্যবহারিক দিক বিবেচনায় নিয়ে পর্যালোচনা করার আহ্বান জানান বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, বিলটি আগামী সপ্তাহে আনা হলে এবং বর্তমান অধিবেশনে তা পাস না হলেও সমস্যা নেই। বরং বিষয়টি নিয়ে বিরোধী দলকে সন্তুষ্ট করা গেলে ভবিষ্যতে আরও ভালো উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে।

শফিকুর রহমানের বক্তব্যে অতীতের রাজনৈতিক নিপীড়নের প্রসঙ্গও উঠে আসে। তিনি বলেন, এই সংসদ ‘মজলুমের সংসদ’ এবং নির্যাতনের অভিজ্ঞতা যাদের রয়েছে, তারা এ ধরনের বিষয় নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই বেশি সতর্ক। জুলুমের স্মৃতি এখনও অনেক মানুষের জীবনে ভয় ও মানসিক ক্ষতের কারণ হয়ে আছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমানের কথা উল্লেখ করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, আরমানের সন্তানরা তার ফিরে আসার পরও প্রায় এক বছর তার কাছে আসতে ভয় পেত। একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি আরও অনেকে হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে হুম্মাম কাদেরের প্রসঙ্গও এ সময় তুলে ধরেন শফিকুর রহমান।

বক্তব্যের শেষাংশে আবারও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জন্য দোয়া করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থে বিষয়টি ইতিবাচকভাবে সমাধানের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘দিল বড়’ করে দিতে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন।

সংসদের ওই আলোচনায় একদিকে যেমন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি শফিকুর রহমানের প্রকাশ্য প্রশংসা ও দোয়ার বিষয়টি আলোচনায় আসে, অন্যদিকে র‍্যাবের অতীত নিয়ে বিরোধী দলের উদ্বেগও স্পষ্ট হয়। নতুন কোনো বিশেষায়িত বাহিনী গঠনের সম্ভাবনার ক্ষেত্রে কার্যকারিতার পাশাপাশি মানবাধিকার, জবাবদিহি ও অতীত অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাই তুলে ধরেন তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category