• সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
প্রেমের প্রস্তাবে অসম্মতি, শিক্ষার্থী অপহরণের অভিযোগ মাদ্রাসা পরিচালকের বিরুদ্ধে দেশের ভাবমূর্তি রক্ষায় সংবাদ প্রকাশে সতর্কতার আহ্বান রিজভীর ব্যালন ডি’অরের লড়াইয়ে কেইন-ইয়ামাল-এমবাপ্পে উপজেলা পর্যায়ে ১৫১ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণে ১৬ হাজার কোটি টাকার পরিকল্পনা গোপালগঞ্জে পুলিশের গাড়িতে হামলা, গ্রেপ্তার বেড়ে ২৫ সর্বকালের সেরা ব্যালন ডি’অর ভোটে মেসিকে টপকে এগিয়ে রোনালদো সরকারের অনুমতি পেলে ক্রসফায়ারেও আপত্তি নেই পুলিশের: আইজিপি জাপান সফরে বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা দেখছেন রিজভী সিলেটে ছেলের হাতে মায়ের মৃ/ত্যু, আহত পরিবারের আরও চারজন মাদ্রাসায় ৯ মাসে যৌন নির্যাতনের শিকার ১০৯ শিশু

কেরানীগঞ্জে যুব মহিলা লীগ নেত্রী হত্যা, গ্রেপ্তার ৩

newsline24 / ১৬ Time View
Update : রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬
কেরানীগঞ্জে যুব মহিলা লীগ নেত্রী হত্যা, গ্রেপ্তার ৩
কেরানীগঞ্জে যুব মহিলা লীগ নেত্রী হত্যা, গ্রেপ্তার ৩

ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে যুব মহিলা লীগ নেত্রী ডালিয়া আক্তারকে (৪৫) হত্যার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, চুরির উদ্দেশ্যে তাঁর বাসায় ঢুকে ধরা পড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় ডালিয়াকে ছুরিকাঘাত ও গলা কেটে হত্যা করেন গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা। তবে পুলিশের এই বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নিহতের ছোট মেয়ে লিজা আক্তার। তাঁর দাবি, চুরি করতে এসে থাকলে ঘরের কোনো জিনিস নেওয়া হয়নি কেন? এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কারও পরিকল্পনা থাকতে পারে বলেও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তিনি।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল ১১টায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) তরিকুল ইসলাম।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান থানার চান্দেরচর এলাকার মো. আশিক (২৩), চর গুলাগুলিয়া এলাকার মো. আলমগীর হোসেন (৩৬) এবং মধ্যেপাড়া এলাকার মো. অনিক (১৯)। পুলিশের ভাষ্য, তাঁরা পরস্পরের পূর্বপরিচিত।

ছাদ দিয়ে বাসায় প্রবেশ, হত্যার পর পালানোর দাবি পুলিশের

পুলিশ জানায়, গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ৬টার দিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুর রসুলপুর এলাকার একটি ফ্ল্যাটে ডালিয়া আক্তারকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় তাঁর মেয়ে বাদী হয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন।

মামলার তদন্তে পুলিশ ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে। পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় প্রথমে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান থানার বালুরচর এলাকা থেকে অনিককে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুর বাজার এলাকা থেকে আশিক ও আলমগীরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, তাঁরা আগে থেকেই পরিচিত ছিলেন। ডালিয়া সকালে গৃহকর্মীর সুবিধার্থে বাসার দরজা খোলা রাখতেন—এ বিষয়টিও তাঁদের জানা ছিল। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে পাশের ভবনের ছাদ দিয়ে তাঁরা ডালিয়ার বাসায় প্রবেশ করেন।

পুলিশের দাবি, তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল চুরি করা। কিন্তু বাসায় ঢোকার পর ডালিয়া বিষয়টি বুঝতে পেরে চিৎকার করেন এবং তাঁদের চিনে ফেলেন। ধরা পড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তাঁকে ছুরিকাঘাত ও গলা কেটে হত্যা করেন বলে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের পর আশিক ও আলমগীর ছাদ দিয়ে পালিয়ে যান। অন্যদিকে, অনিক বোরকা পরে বাসার মূল দরজা দিয়ে বেরিয়ে যান। পালানোর সময় ব্যবহৃত বোরকা ও জুতা একটি বালুর মাঠে ফেলে রাখা হয়েছিল। পরে অনিকের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সেগুলো উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

‘চুরি করতে এলে ঘরের কিছু নেওয়া হয়নি কেন?’

পুলিশের দেওয়া হত্যাকাণ্ডের ব্যাখ্যা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন ডালিয়া আক্তারের ছোট মেয়ে লিজা আক্তার। তাঁর দাবি, তাঁর মাকে শুধু চুরির উদ্দেশ্যে হত্যা করা হয়নি; এর পেছনে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে।

লিজার প্রশ্ন, চুরি করতে এসে থাকলে ঘরের আলমারির কোনো কিছু ভাঙা হয়নি কেন? বাসা থেকে কোনো জিনিসও নেওয়া হয়নি কেন? এসব বিষয় তুলে ধরে তিনি হত্যাকাণ্ডের পেছনে পরিকল্পনাকারী বা ‘মাস্টারমাইন্ড’ থাকার সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

তবে পরিবারের এই সন্দেহের পক্ষে কী ধরনের তথ্য বা প্রমাণ রয়েছে, তা বিস্তারিত জানা যায়নি। একইভাবে, পুলিশের তদন্তে চুরির উদ্দেশ্যের বাইরে অন্য কোনো কারণ কিংবা তৃতীয় কোনো ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে কি না, সে বিষয়েও সংবাদ সম্মেলনে নিশ্চিত করে কিছু জানানো হয়নি।

হত্যার প্রকৃত কারণ নিয়ে তদন্তের অপেক্ষা

ডালিয়া আক্তার হত্যাকাণ্ডে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও ঘটনার পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। একদিকে পুলিশ বলছে, চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। অন্যদিকে, নিহতের মেয়ে ঘর থেকে কোনো জিনিস খোয়া না যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে ভিন্ন কোনো পরিকল্পনার সন্দেহ করছেন।

এ অবস্থায় সিসিটিভি ফুটেজ, উদ্ধার করা বোরকা ও জুতা, ঘটনাস্থলের অন্যান্য আলামত এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই করা তদন্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে পরিবারের উত্থাপিত সন্দেহের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হলে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

এখন পর্যন্ত পুলিশের বক্তব্য ও পরিবারের দাবির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই শেষ পর্যন্ত জানা যাবে, ডালিয়া আক্তার হত্যাকাণ্ডের পেছনে কেবল চুরির চেষ্টা ছিল, নাকি এর নেপথ্যে অন্য কোনো কারণও রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category