গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে এক গৃহবধূর আপত্তিকর ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগে আবু সাঈদ নামে এক মাদ্রাসাশিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (২৪ অক্টোবর) টাকা নিতে ওই গৃহবধূর বাড়িতে গেলে স্বজন ও স্থানীয় লোকজন তাঁকে আটক করে মারধর করেন। পরে তাঁকে গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। রোববার (২৫ অক্টোবর) পুলিশ তাঁকে আদালতে পাঠিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাদ্রাসাশিক্ষক আবু সাঈদের সঙ্গে ওই গৃহবধূর পরিচয়ের সূত্র ধরে একপর্যায়ে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, পরে ওই গৃহবধূর একটি আপত্তিকর ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাঁর কাছে টাকা দাবি করেন শিক্ষক। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের আশঙ্কায় গৃহবধূ প্রথমে তিন লাখ টাকা এবং পরে আরও ৫১ হাজার টাকা দেন।
তবে টাকা দেওয়ার পরও দাবি থামেনি বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। সম্প্রতি আবু সাঈদ আবারও ওই গৃহবধূর কাছে এক লাখ টাকা দাবি করেন। এ অবস্থায় গৃহবধূ তাঁকে টাকা দেওয়ার কথা বলে বাড়িতে আসতে বলেন। একই সঙ্গে তিনি বিষয়টি আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয় লোকজনকে জানান।
শনিবার বিকেলে আবু সাঈদ টাকা নিতে ওই বাড়িতে পৌঁছালে আগে থেকে প্রস্তুত থাকা গৃহবধূর স্বজন ও স্থানীয় লোকজন তাঁকে আটক করেন। একপর্যায়ে তাঁকে মারধর করা হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহাফুজার রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে মাদ্রাসাশিক্ষককে আটক করা হয়েছে। রোববার তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওই গৃহবধূর কাছ থেকে দুই দফায় মোট তিন লাখ ৫১ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। এরপরও নতুন করে এক লাখ টাকা দাবি করার বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতে কী সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ গুরুতর। এ ধরনের ঘটনায় ভুক্তভোগীরা সামাজিক ও পারিবারিক সম্মানহানির আশঙ্কায় অনেক সময় মুখ খুলতে দ্বিধা করেন। তবে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণ এবং আইন অনুযায়ী বিচারপ্রক্রিয়া নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে কারও ব্যক্তিগত ভিডিও অনুমতি ছাড়া ছড়িয়ে দেওয়া বা তা ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অর্থ দাবি করার অভিযোগ প্রমাণিত হলে, তা প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিচারযোগ্য হতে পারে।
এ ঘটনায় পুলিশের তদন্তের অগ্রগতি এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারণ করবেন সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ ও আদালত।